সনাতনীদের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রায়ে বিএনপির বিজয়, নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিল সংখ্যালঘু ভোট
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩০
304 জন পড়েছেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সকল সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভোটের ঐতিহাসিক ভূমিকার মধ্য দিয়ে আবারও প্রমাণিত হলো—বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায় কখনোই স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী নয়।
বরং তারা শুরু থেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে এবং একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্নে বিশ্বাসী। এবারের নির্বাচনে তাদের সচেতন ও সংঘবদ্ধ অংশগ্রহণ দেশের রাজনৈতিক গতিপথে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
নির্বাচন-পরবর্তী প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা গেছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অধিকাংশ আসনে ৩ থেকে ৭ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যবধান তৈরিতে সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ভোট একটি নির্ণায়ক ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করেছে। বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিপুল সমর্থন বিএনপিকে ২০০টিরও বেশি আসনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
হিন্দু সম্প্রদায়ের এই অবদানকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি তাদের অবিচল অবস্থানেরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন অনেকে। তারা মনে করছেন, একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী সব সময়ই ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বিএনপির কাছে বেশ কয়েকটি প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চিন্ময় প্রভুর মুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ, হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে হিন্দুদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, এবং নির্যাতন ও নিপীড়নের কারণে যারা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন তাদের নিরাপদে দেশে ফেরার পরিবেশ সৃষ্টি করা।
হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনে তাদের এই ঐতিহাসিক ভূমিকার যথাযথ সম্মান জানাতে বিএনপি যদি এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তবে তা শুধু সংখ্যালঘুদের আস্থা ফিরিয়ে আনবে না, বরং একটি সত্যিকারের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সাম্যভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের পথ সুগম করবে।
নির্বাচনের এই বিজয়ে বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আগামীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারে রহমানেরর প্রতিও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।
তাদের প্রত্যাশা, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সব ধর্ম, বর্ণ ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষের জন্য সমান অধিকার ও নিরাপত্তার দেশ হিসেবে গড়ে