"মুক্তিবাহিনী আসলে হিন্দু বাহিনী" - পাকিস্থানি প্রেতাত্মাদের দ্বারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সবচেয়ে বড় অপপ্রচার
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২৭ জুলাই ২০২৬, ১৩:০৩
88 জন পড়েছেন
মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও এদেশীয় দোসরদের নৃশংসতা যে হিন্দু বিদ্বেষী ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার অনিবার্য ফলাফল তা অনেক বুদ্ধিজীবী স্বীকার করতে কষ্ট হয়। কিন্তু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর টপ লেভেলের জেনারেল ও এদেশীয় দোসরদের নেতৃত্বের ভূমিকায় তা সুস্পষ্ট হয়। বর্তমান সময়ের মতো তৎকালীন সময়েও Yellow Journalism এর আশ্রয় নিয়ে সিলেক্টেড জেনোসাইড এর পথ প্রশস্ত করা হয়। সিলেক্টেড হিন্দু জেনোসাইড এর পটভূমি নির্মাণে এইসকল বৌদ্ধিক প্ল্যাটফর্ম সমূহ কতটুকু সুক্ষ কিন্তু নিখুঁত-নির্মম ভূমিকা পালন করেছে তা তৎকালীন সময়ের একটি পত্রিকার পাতা দেখলে বোধগম্য।
যেখানে প্রায় ৫৫ বছর আগের ঢাকাস্থ একটি পত্রিকায় পাক সরকারের একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় “মুক্তিবাহিনী আসলে একটি হিন্দু বাহিনী” শিরোনামে। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই এটিকে হিন্দু মুসলিম যুদ্ধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা চালায় পাকিস্তান। একই সঙ্গে তারা এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল যে, একজন মুসলিম কখনো ভা/রতের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তানের বিরোধিতা করতে পারে না বা তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে না। যা তৎকালীন দোসরদের বক্তব্যে বারংবার উঠে এসেছে। প্রোপাগান্ডার অংশ হিসেবে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ফৌজের অধিকাংশ সদস্যই হিন্দু, যারা শরণার্থী শিবির থেকে গিয়ে যুদ্ধ করছে। পাকিস্তানের প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য ছিল, পাকিস্তানের বিরোধিতা মানেই হিন্দুদের কাজ।
এই বিদ্বেষ যে বাস্তবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মগজে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে তা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সিলেক্টেড হিন্দু জেনোসাইড সমূহের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে সুস্পষ্ট হয়। উদাহরণস্বরূপ, বুরুঙ্গা গণহত্যা, ডাকরা ও গোলাহাট গণহত্যায় সুনির্দিষ্ট ভাবে হিন্দু পরিচয় নিশ্চিত করে হত্যাকাণ্ড চালানো হয় এবং চুকনগর গণহত্যা সেই শরনার্থী শিবিরের হিন্দু মুক্তিযুদ্ধ করে এই ন্যারেটিভ এর প্রমাণ। শুধুমাত্র গণহত্যার মাধ্যমে এই বিষয় পরিষ্কার হয় তা নয় বরং তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের মেজর রাঠোর অত্যন্ত নির্লিপ্তভাবে মাসকারেনহাসের কাছে স্বীকার করেন, "অবশ্যই, আমরা শুধু হিন্দুদেরই হত্যা করছি"।
এখানেই শেষ নয় ১ নম্বর সেক্টরের কমান্ডার এবং পরবর্তীকালে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর রফিক-উল-ইসলাম (বীর উত্তম) তাঁর বিখ্যাত "A Tale of Millions" (লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে) গ্রন্থে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রে গুরুতর আহত ও মৃত্যু পথযাত্রী এক পাকিস্তানি সৈন্যকে যখন মুক্তিযোদ্ধারা উদ্ধার করেন, তখন সেই সৈন্যটি পানির জন্য আকুতি জানাচ্ছিল। তখন এক বাঙালি মুসলিম মুক্তিযোদ্ধা যখন তাকে পানি খাইয়ে দেন এবং তার জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেন, তখন পাকিস্তানি সৈন্যটি পরম বিস্ময়ে জিজ্ঞেস করেছিল"তোমরা তো মুসলমান, তাহলে তোমরা কেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছ? আমাদের অফিসাররা তো বলেছিল পূর্ব পাকিস্তানে কোনো আসল মুসলমান নেই, এখানে সব কাফের আর হিন্দুরা বিদ্রোহ করেছে!" এই পাকিস্তানি সৈনিকের বক্তব্য যে মিথ্যা নয় তা আত্মসমর্পণের সময় নিয়াজির অন্যতম সহযোগী লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামাল মতিনউদ্দিন তাঁর বিভিন্ন লেখায় স্বীকার করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, পশ্চিম পাকিস্তানের সেনাদের বিশ্বাস করানো হয়েছিল পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানরা "আধা-হিন্দু" এবং তারা ভারতের প্রভাবে পুরোপুরি হিন্দুয়ানি সংস্কৃতি ধারণ করেছে। তাই তারা মনে করত মুক্তিযোদ্ধাদের দমন করা মানে হিন্দুদের দমন করা।
এমন সিলেক্টেড জেনোসাইড এর অজস্র উদাহরণ দেওয়া সম্ভব কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সেই হিন্দু হলোকাস্ট এর স্বীকৃতি কি কখনো আসবে