চট্টগ্রাম জজ কোর্টের প্রথিতযশা আইনজীবী অ্যাডভোকেট দিলীপ কান্তি নাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী অধ্যাপক ডা. মৌমিতা দাশ। প্রধান বক্তার আসন অলঙ্কৃত করেন বাগীশিক কেন্দ্রীয় সংসদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক পলাশ কান্তি নাথ রণী। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালী দক্ষিণেশ্বরী কালী ও ভোলানাথ শিব মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সবুজ চক্রবর্তী।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মৌমিতা দাশ বলেন, বর্তমান যুগে স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের গতানুগতিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও সনাতনী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। কেবল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বা পুঁথিগত বিদ্যা অর্জনই প্রকৃত শিক্ষা নয়; বরং ধর্মীয় চেতনার মাধ্যমে নৈতিকতা ও আদর্শের বিকাশ ঘটিয়ে একজন সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সন্তানদের আদর্শ ও আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে অভিভাবকদের সচেতন ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই।
প্রধান বক্তা প্রভাষক পলাশ কান্তি নাথ রণী তাঁর বক্তব্যে বলেন, সনাতন ধর্মের শাশ্বত বাণী ও গীতার আদর্শ যদি শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে গেঁথে দেওয়া যায়, তবেই তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্পদে পরিণত হবে। পারিবারিক পরিমণ্ডলে শাস্ত্রচর্চা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমেই একটি সুন্দর ও কলুষমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অবদানের জন্য বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী তিথি ধর এবং ধর্মীয় শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ গীতা প্রশিক্ষক চৈতি মল্লিককে বিশেষ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানে বাপ্পী ধর, শিক্ষক মিলি ঘোষ, কাকলী শর্মা, রূপনা চৌধুরী, কণিকা চৌধুরী, নন্দিনী বিশ্বাস, চুমকি চৌধুরী, পুণম নাথ, প্রিয়ন্তী দাশ, শান্তনা দাশ, মৃত্তিকা দেওয়ানজী ও প্রাচী চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা প্রত্যেকেই সনাতনী সংস্কৃতির সুরক্ষা ও নতুন প্রজন্মের মাঝে ধর্মীয় শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বিপুল সংখ্যক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি একটি মিলনমেলায় পরিণত হয়।