Screenshots are strictly prohibited on this page.
This action has been logged with your IP address.
নড়াইল জেলায় সর্বোচ্চ ১২১০ নম্বর পেয়ে এসএসসি পরীক্ষায় ইতিহাস সৃষ্টি করেও অর্থাভাবে মেডিক্যাল পড়ার স্বপ্ন অনিশ্চয়তায় পড়েছে অদম্য মেধাবী পূজা বিশ্বাসের। চরম প্রতিকূলতা ও অভাবের সঙ্গে যুদ্ধ করা এই সনাতনী কন্যার চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়ার অধিকার সুনিশ্চিত করতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।
মেধা ও আত্মবিশ্বাসের কাছে যে চরম দারিদ্র্যও হার মানতে বাধ্য, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নড়াইলের সনাতনী কন্যা পূজা বিশ্বাস। নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের নলদিচর গ্রামের এই মেধাবী শিক্ষার্থী চরম প্রতিকূলতা কাটিয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের অধীনে কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১০ নম্বর পেয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। নড়াইল জেলার মোট ৮ হাজার ২৬২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার এই ঐতিহাসিক গৌরব অর্জনের পরও তার পরিবারে আজ উৎসবের বদলে ভর করেছে এক গভীর বিষাদ। মাত্র পাঁচ শতক জমির ওপর নির্মিত ভাঙাচোরা বসতভিটা আর কৃষিকাজ করে চলা সাত সদস্যের অভাবী সংসারে আলো জ্বালানো পূজার স্বপ্ন ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে আর্তমানবতার সেবা করা এবং তার মতো অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো। ছোটবেলা থেকেই শ্রেণিকক্ষে প্রথম হওয়া এই ছাত্রী গ্রামে বিদ্যুৎ চলে গেলে কখনো কেরোসিনের বাতি আবার কখনো চার্জলাইটের ক্ষীণ আলোয় দিনরাত এক করে লেখাপড়া চালিয়েছে। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ ও শিক্ষকদের অক্লান্ত দিকনির্দেশনায় পূজার এই অসামান্য অর্জনে পুরো এলাকা ও হিন্দু সম্প্রদায় গর্বিত হলেও সামনে বিশাল খরচের পাহাড় তার ভবিষ্যৎকে আটকে দিচ্ছে।