অফিস সহকারী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির পথে: ফটিকছড়ির আশুতোষ নাথের অনুপ্রেরণার গল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৩৯
337 জন পড়েছেন
চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল ফটিকছড়ি থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে পিএইচডি—এ যেন এক অবিশ্বাস্য পথচলার গল্প। প্রতিকূলতা, দারিদ্র্য আর সীমাবদ্ধতাকে জয় করে নিজের অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন আশুতোষ নাথ। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে মেসেচুসেটস বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিসিন অ্যান্ড সিনথেটিক অর্গানিক কেমিস্ট্রি বিষয়ে পূর্ণ বৃত্তিসহ পিএইচডি করতে যাচ্ছেন।
আশুতোষের শৈশব কেটেছে অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির একটি গ্রামে জন্ম নেওয়ার পর জীবিকার তাগিদে তাঁর পরিবার পাড়ি জমায় খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে। সেখানে তাঁর বাবা মিলন নাথ একটি ভ্রাম্যমাণ ধানভাঙা মেশিন চালিয়ে সংসার চালাতেন। পাঁচ সন্তানের পরিবারে সবার ছোট ছিলেন আশুতোষ। বড় ভাই পরিতোষ নাথের ত্যাগ আর ভালোবাসাই ছিল তাঁর পড়াশোনার প্রধান ভরসা।
পারিবারিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আশুতোষ পড়াশোনায় অদম্য মনোযোগ ধরে রাখেন। মানিকছড়ির রানী নিহার দেবী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং গিড়ী মৈত্রী কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন তিনি। এরপর চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসীন কলেজে রসায়ন বিভাগে ভর্তি হন। কিন্তু পড়াশোনার পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য তাঁকে কাজ করতে হয়েছে। চকবাজারের একটি কম্পিউটার দোকানে কাজ করে নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারকেও সহায়তা করেছেন।
জীবনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে যখন তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি পান। ঢাকায় এসে চাকরির পাশাপাশি রাত জেগে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন। এই সময়েই তিনি নিজের দক্ষতা বাড়ান এবং পড়াশোনাও চালিয়ে যান।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) স্নাতকোত্তরে ভর্তি হয়ে গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। বুয়েটে পড়ার সময় আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর একাধিক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়, যা তাঁর একাডেমিক ক্যারিয়ারে বড় ভূমিকা রাখে। সীমিত ফলাফল থাকা সত্ত্বেও গবেষণায় সাফল্যই তাঁকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এগিয়ে দেয়।
বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার পর অবশেষে তিনি সুযোগ পান যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস বোস্টনে। কয়েক ধাপের ভার্চ্যুয়াল সাক্ষাৎকার শেষে তাঁকে পিএইচডি গবেষক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ইতোমধ্যে তিনি ভিসা পেয়েছেন এবং শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সেখানে শিক্ষা সহকারী হিসেবেও খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ পেয়েছেন।
আশুতোষ নাথের এই যাত্রা কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে যে সীমাবদ্ধতা কখনোই চূড়ান্ত বাধা নয়। একাগ্রতা, কঠোর পরিশ্রম এবং বড় স্বপ্ন দেখার সাহস থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতাকে জয় করা সম্ভব। তাঁর এই সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প তরুণ প্রজন্মের জন্য এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।