বিবাহিতদের তুলনায় অবিবাহিতদের ক্যানসার ঝুঁকি ৭০ শতাংশ বেশি
অভ্র
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত:
০২ মে ২০২৬, ০৭:২২
226 জন পড়েছেন
সনাতন ধর্মে বিবাহ কেবল একটি সামাজিক চুক্তি নয়, বরং এটি একটি পবিত্র আধ্যাত্মিক বন্ধন বা সংস্কার। শাস্ত্রীয় এই বিধান যে কেবল আত্মিক শান্তির জন্য নয়, বরং শারীরিক সুস্থতার জন্যও অপরিহার্য, তার প্রমাণ মিলল আধুনিক বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দীর্ঘ মেয়াদী এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বিবাহিত ব্যক্তিদের তুলনায় অবিবাহিতদের মধ্যে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেশি।
২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১২টি অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এই চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, যারা কখনো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হননি, তারা প্রায় সব ধরনের প্রধান ক্যানসার সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, অবিবাহিত পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির মাত্রা বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। তবে নারীদের ক্ষেত্রে চিত্রটি আরও ভয়াবহ; অবিবাহিত নারীদের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষণার বিস্তারিত তথ্যে আরও দেখা যায়, অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যে মলদ্বারের ক্যানসারের হার বিবাহিতদের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে, অবিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখের ক্যানসারের হার প্রায় তিন গুণ। গবেষকদের মতে, বিবাহের ফলে মানুষের জীবনযাত্রায় এক ধরনের ইতিবাচক শৃঙ্খলা ও সাত্ত্বিক পরিবর্তন আসে। জীবনসঙ্গীর সাহচর্য ও পারিবারিক দায়িত্ববোধের কারণে খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি পায়, যা পরোক্ষভাবে শরীরকে কঠিন ব্যাধি থেকে রক্ষা করতে ঢাল হিসেবে কাজ করে।
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সতর্ক করে বলেছেন যে, বিবাহ সরাসরি ক্যানসার নিরাময় করে না, বরং এটি একটি সুশৃঙ্খল সামাজিক ও আচরণগত সুরক্ষা বলয় তৈরি করে। শাস্ত্রীয় জীবনবোধ ও পারিবারিক সংহতি যে মানুষের পরমায়ু ও সুস্বাস্থ্য রক্ষায় কতটা কার্যকর, মায়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা তারই বাস্তব প্রতিফলন। যারা বর্তমানে অবিবাহিত রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে গবেষকরা অধিকতর স্বাস্থ্য সচেতনতা অবলম্বন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরামর্শ দিয়েছেন। আধুনিক বিজ্ঞানের এই বার্তা যেন আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে—সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের জন্য সনাতন পারিবারিক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।