হারিয়ে যাচ্ছে চন্দ্রনাথের প্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংকটে সীতাকুণ্ডের ঐতিহাসিক তীর্থধাম
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
০৭ মে ২০২৬, ০৮:২৩
প্রতীকী ছবি
145 জন পড়েছেন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এলাকায় অবস্থিত চন্দ্রনাথ ধাম দেশের অন্যতম প্রাচীন হিন্দু তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই ধাম ভক্তদের কাছে আধ্যাত্মিক সাধনার কেন্দ্র হলেও, বর্তমানে এর প্রাচীন ঐতিহ্যের অনেকটাই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রচলিত শাস্ত্রীয় বর্ণনা অনুযায়ী, একসময় চন্দ্রনাথ ধামকে ঘিরে চারটি শক্তিপীঠসদৃশ দেবী মন্দিরের উপস্থিতি ছিল। ত্রিপুরা ভৈরবী, শ্যামা, কাত্যায়নী এবং চতুর্ভুজা মহাকালীর বিগ্রহ ধামের চারপাশে অবস্থান করতেন বলে জানা যায়। এসব দেবীকে ধামের রক্ষাকর্ত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে বর্তমানে ওইসব বিগ্রহ বা মন্দিরের দৃশ্যমান কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও নিয়মিত তীর্থযাত্রীদের অনেকেই জানান, অতীতের এই গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস সম্পর্কে তাদের স্পষ্ট ধারণা নেই। অনেকেই মনে করেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব নিদর্শন হারিয়ে গেছে, কিন্তু কীভাবে বা কখন তা বিলুপ্ত হয়েছে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবই এই বিলুপ্তির অন্যতম কারণ হতে পারে। পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় প্রাকৃতিক বিপর্যয়—বিশেষ করে ভূমিধস, ভারী বৃষ্টিপাত এবং ঝড়—প্রাচীন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এছাড়া ধারাবাহিক গবেষণা ও নথিভুক্তির অভাবেও ঐতিহাসিক তথ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, চন্দ্রনাথ ধামের মতো গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানকে ঘিরে সুপরিকল্পিত গবেষণা, প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান এবং সংরক্ষণ কার্যক্রম জরুরি হয়ে পড়েছে। তা না হলে ভবিষ্যতে এই স্থানের প্রাচীন ইতিহাস পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, স্থানীয় প্রশাসন, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এই হারিয়ে যাওয়া নিদর্শনগুলোর সন্ধান ও সংরক্ষণ সম্ভব। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
চন্দ্রনাথ ধাম শুধু একটি ধর্মীয় স্থান নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই এর অতীত ইতিহাস সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।