সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের পথে ফকিরহাটের শতাব্দীপ্রাচীন জোড়া শিবমন্দির
হৃদয় চন্দ্র শীল
সুবর্ণচর প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৩
95 জন পড়েছেন
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় অবস্থিত প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক জোড়া শিবমন্দিরটি দীর্ঘদিনের অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সংরক্ষণ ও সংস্কার উদ্যোগ না নিলে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাটি হারিয়ে যেতে পারে।
মন্দির প্রাঙ্গণে থাকা শিলালিপি অনুযায়ী, ১১০৫ বঙ্গাব্দে নির্মিত এই জোড়া শিবমন্দির দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে এখানে শিবপূজা ও নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, মন্দিরটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দেয়ালে দীর্ঘদিন ধরে নোনা ধরায় পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং টেরাকোটার কারুকাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গম্বুজে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। মন্দিরের পুরোনো দরজাগুলো ভেঙে পড়ার উপক্রম, আর ছাদের ফাঁকে জন্মানো বটগাছ ও শেকড় স্থাপনাটির কাঠামো আরও দুর্বল করে তুলছে। মন্দিরের ভেতরে থাকা দুটি শিবলিঙ্গও যথাযথ সুরক্ষার অভাবে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সমীর চক্রবর্তী, অরবিন্দু দাসসহ অনেকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে কোনো বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় মন্দিরটির এই বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই বলেও অভিযোগ করেন তারা। ভক্তরা মাঝে মাঝে নিজ উদ্যোগে সামান্য রং করলেও প্রাচীন কাঠামো সংরক্ষণের মতো কাজ করা সম্ভব নয় বলে জানান স্থানীয়রা।
মন্দিরের পুরোহিত বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী বলেন, এখানে নিয়মিত পূজা-অর্চনা ও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে। তবে মন্দিরটির অবস্থা দিন দিন অবনতি হচ্ছে। দ্রুত সংস্কার না হলে এটি টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, ফকিরহাটের এ ধরনের প্রাচীন স্থাপনাগুলোকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে এই ঐতিহ্য রক্ষা সম্ভব।
এ বিষয়ে বাগেরহাট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কাস্টোডিয়ান মো. যায়েদ বলেন, বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।