কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমে গুরুমহারাজের ৯৫তম শুভ আবির্ভাব উৎসব
সৌরভ সাহা
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২০
26 জন পড়েছেন
আধ্যাত্মিক সাধনা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ভক্তির আবহে কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জগৎগুরু পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী পরমহংস মহাযোগী শ্রীমৎ স্বামী সুরেশ্বরানন্দ পুরী গুরুমহারাজের ৯৫তম শুভ আবির্ভাব উৎসব।
আগামী ২৫, ২৬ ও ২৭ আগস্ট ২০২৬ (৭, ৮ ও ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমে তিন দিনব্যাপী এ উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবকে ঘিরে আশ্রম প্রাঙ্গণে মহতী ধর্মসভা, অষ্টপ্রহরব্যাপী শ্রীশ্রী পূর্ণব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন, শ্রীশ্রী গীতা হোমযজ্ঞসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, গুরুমহারাজের আধ্যাত্মিক জীবন, সাধনা, শিক্ষা ও মানবকল্যাণের আদর্শকে স্মরণ এবং তাঁর দর্শন ও জীবনাদর্শ ভক্তদের মাঝে তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন। একই সঙ্গে ধর্মীয় চেতনা, নৈতিক মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে শান্তি ও মানবিকতার বিকাশ ঘটানোও এ উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য।
কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রম আর্য ঋষি সনাতনী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ঋষিগণের বিচরণস্থল হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছর এ আশ্রমে বিভিন্ন ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এবার গুরুমহারাজের ৯৫তম শুভ আবির্ভাব উৎসবকে কেন্দ্র করে আশ্রমজুড়ে ভক্তিময় পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ অষ্টপ্রহরব্যাপী শ্রীশ্রী পূর্ণব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন। এর পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হবে শ্রীশ্রী গীতা হোমযজ্ঞ ও মহতী ধর্মসভা। ধর্মসভায় সনাতন ধর্মের আদর্শ, মানবজীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধ, আধ্যাত্মিকতার গুরুত্ব এবং গুরুর শিক্ষা ও সাধনার তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা হবে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রীমা সুরেশ্বরী দেবী ও ঋষিপুত্র আশ্রমাধ্যক্ষ মহারাজজীর কৃপাপূর্ণ প্রেরণায় এবারের উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠান সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে উৎসব উদযাপন পরিষদ-২০২৬ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
এদিকে উৎসব উপলক্ষে দেশ-বিদেশের ভক্ত, শিষ্য, অনুরাগী ও ধর্মপ্রাণ সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষকে স্ব-পরিজনসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন আয়োজকরা। একই সঙ্গে উৎসবের সার্বিক সফলতা ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমে ভক্ত-অনুরাগীদের মিলনমেলা বসবে বলে প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা। হরিনাম সংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে উৎসবটি আধ্যাত্মিক ও ভক্তিময় পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।