ধর্মনিরপেক্ষতা নয়, সব ধর্ম ও বিশ্বাসের মানুষের সমান অধিকার চায় বিএনপি: আল–জাজিরাকে মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২০
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল
232 জন পড়েছেন
ধর্মনিরপেক্ষতা নয়; বরং সব ধর্ম ও সব বিশ্বাসের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করাই বিএনপির রাজনৈতিক লক্ষ্য—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
গত বুধবার সম্প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে ধর্মনিরপেক্ষতা বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি এমন একটি রাষ্ট্র চায় যেখানে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারবে এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত থাকবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৯৫ শতাংশ মুসলমান হওয়ায় ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি মানানসই নয়। তবে অন্য ধর্মাবলম্বীদের অধিকার নিশ্চিত করা গেলে সেখানে কোনো সমস্যা থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় বিএনপির রেকর্ড সবচেয়ে ভালো বলে দাবি করেন দলটির মহাসচিব। তাঁর মতে, বাংলাদেশের ইতিহাসে যতবার রাজনৈতিক পরিবর্তন হয়েছে, ততবারই কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে, তবে সেগুলো রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক নয়। তিনি বলেন, কেউ যদি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মী হওয়ার কারণে হামলার শিকার হন, সেটিকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা বলা ঠিক নয়। এ প্রসঙ্গে ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমকে উদ্দেশ করে তিনি অভিযোগ করেন, তারা প্রায়ই এসব ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রূপ দিয়ে প্রচার করে।
আল–জাজিরার সাংবাদিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের সময়কে সংখ্যালঘুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সময় হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, তিনি এমন কোনো তথ্য কখনো দেখেননি এবং এসব অভিযোগ পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করেন। সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘের জরিপে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হলে তিনি সেটিও প্রত্যাখ্যান করেন।
বিএনপি নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হলে পরিবর্তন ও জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন হবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, তারেক রহমান ইতিমধ্যেই জাতির সামনে তাঁর পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, লন্ডন থেকে দেশে ফেরার প্রথম দিনই বিপুলসংখ্যক মানুষ তাকে অভ্যর্থনা জানায় এবং সেখানেই তিনি জনগণের কাছে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, এসব মামলা আগের সরকারের দেওয়া এবং এর কোনোটিই প্রমাণিত হয়নি। তিনি দাবি করেন, অধিকাংশ মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও দুর্নীতির অভিযোগভিত্তিক ছিল, কিন্তু কোনো অভিযোগই টেকেনি।
বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে বিএনপির বহু নেতা–কর্মীর জমি, দোকান ও ব্যবসা জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হয়েছিল। এখন তারা সেগুলো ফিরে পাওয়ায় কিছু অভিযোগ উঠছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা থাকতে পারে এবং পরিবর্তনের সময় এমন পরিস্থিতি অনেক দেশেই দেখা যায়।
কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে তিনি নন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতেও তিনি জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ করার বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করলে সমস্যার সমাধান হয় না, বরং রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করাই সঠিক পথ।
শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা করা হবে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় কার্যকর করার।
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠন সম্ভব। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকায় আসা এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তাকে তিনি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।