গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমন্দির নির্মাণ ঘিরে বিতর্ক: ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন
লেখক : তসলিমা নাসরিন
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
১১ জুন ২০২৬, ২৩:৩৬
348 জন পড়েছেন
বাংলাদেশে কয়েক লক্ষ মসজিদ রয়েছে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত নতুন মসজিদ নির্মিত হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন একটি রামমন্দির ও রামের মূর্তি স্থাপনকে কেন্দ্র করে আপত্তি, হুমকি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের ঘটনা নতুন করে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
লেখিকা তসলিমা নাসরিন তার এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, যদি ধর্মীয় স্বাধীনতা সত্যিই সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয়, তবে তা কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর জন্য সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রেও একইভাবে কার্যকর হতে হবে। কারও ব্যক্তিগত পছন্দ বা অপছন্দের কারণে অন্যের উপাসনালয় নির্মাণে বাধা দেওয়া কিংবা তা ভেঙে ফেলার হুমকি দেওয়ার কোনো নৈতিক বা আইনি ভিত্তি নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পলাশবাড়ীতে রামমন্দির নির্মাণের বিরোধিতাকে উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত কোনো রাষ্ট্রে ধর্মীয় মতভেদ বা বিরোধের সমাধান সহিংসতা, উসকানি কিংবা বর্বরতার মাধ্যমে হতে পারে না। রাষ্ট্রের আইন ও বিচারব্যবস্থার মাধ্যমেই যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, পলাশবাড়ী অঞ্চলে অতীতেও হিন্দু মন্দিরে হামলা ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ফলে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হওয়াকে অস্বাভাবিক বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের উদাহরণ তুলে ধরে তসলিমা নাসরিন বলেন, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া ও ওমানের মতো দেশে বড় বড় হিন্দু মন্দির রয়েছে এবং সেসব দেশে মন্দিরের অস্তিত্ব রাষ্ট্রের জন্য কোনো হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয় না। তাই বাংলাদেশে একটি মন্দির নির্মাণকে কেন্দ্র করে কেন এত বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে, সেই প্রশ্নও তিনি উত্থাপন করেন।
তিনি মনে করেন, হিন্দুবিদ্বেষ, মুসলিমবিদ্বেষ, ইহুদিবিদ্বেষ কিংবা খ্রিস্টানবিদ্বেষ—যে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষই একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য ক্ষতিকর। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা প্রদান করা এবং যারা সহিংসতা বা ভাঙচুরের হুমকি দেয় তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
একটি গণতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে যেমন মসজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব, তেমনি মন্দির, গির্জা ও বৌদ্ধবিহারের নিরাপত্তাও সমানভাবে নিশ্চিত করতে হবে। আইনের শাসন ও সাংবিধানিক সমঅধিকারের মৌলিক দাবি এখানেই নিহিত রয়েছে।