আতঙ্ক নয় আস্থা, বিভাজন নয় সংহতি
সুজিত ঘোষ
লেখক, কলামিষ্ট, কবি ও সংগঠক।
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৩:১৪
325 জন পড়েছেন
দেশ আজ এক গভীর উদ্বেগের সময় অতিক্রম করছে। রাজনৈতিক সহিংসতা, সামাজিক অস্থিরতা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে সাধারণ মানুষের জীবনে আতঙ্ক নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে শিক্ষক, নারী-শিশু এবং বিশেষ করে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো কেবল ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নয়, রাষ্ট্রের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা কেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আস্থা পুনর্গঠনের একমাত্র কার্যকর পথ। কারণ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারই পারে জনগণের ভয় দূর করে রাষ্ট্রের প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে। নির্বাচন যদি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়, তবে সেটিই হবে সহিংস রাজনীতির বিপরীতে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রথম ধাপ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিভাজনের রাজনীতি। ধর্ম, জাতিসত্তা কিংবা মতাদর্শের ভিত্তিতে সমাজকে খণ্ডিত করার প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রকে দুর্বল করে। জাতীয় নির্বাচনকে তাই সংহতির প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা জরুরি, যেখানে সকল নাগরিক নির্বিশেষে সমান নিরাপত্তা ও মর্যাদার বার্তা পায়। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
নির্বাচনের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্ব,এসবই নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ তৈরি না হলে আস্থার সংকট কাটবে না।
আজ দেশের জনগণ তাকিয়ে আছে একটি পরিবর্তনের আশায়, যেখানে আতঙ্কের রাজনীতি নয়, প্রতিষ্ঠিত হবে আস্থার সংস্কৃতি; বিভাজনের ভাষা নয়, জোরালো হবে জাতীয় সংহতি। জাতীয় নির্বাচনই হতে পারে সেই মোড় ঘোরানো সুযোগ, যা দেশকে সহিংসতা ও অনিশ্চয়তার পথ থেকে ফিরিয়ে এনে স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক স্বাভাবিক তার পথে পরিচালিত করবে।