সম্প্রতি চলচ্চিত্রটির ফার্স্ট লুক ও মোশন পোস্টার প্রকাশ্যে এসেছে, যা সমাজমাধ্যম ও দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রকাশিত পোস্টারে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপ ও চারপাশের আগুনের লেলিহান শিখার মধ্য দিয়ে দৃঢ় পায়ে এগিয়ে আসছেন কঙ্গনা। তাঁর মুখে আঘাতের চিহ্ন এবং গালে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ। নার্সের পোশাকে তিনি যেন হয়ে উঠেছেন অবিনশ্বর মানবতা ও ত্যাগের এক মূর্ত প্রতীক, যিনি চরম বিপদের মাঝেও নিজের পবিত্র দায়িত্ব পালনে অটল ও অবিচল। ফার্স্ট লুক প্রকাশের পর কঙ্গনা নিজে একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন যে, বিশেষ কিছু করেও অনেকে সাধারণই থেকে যান; তাঁরা আমাদের চোখের সামনেই থাকেন, কিন্তু অনেক সময় তাঁদের মহৎ অবদান আমরা উপলব্ধি করতে পারি না। তাঁর এই বার্তা মূলত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের নিঃস্বার্থ ত্যাগ, সনাতন মূল্যবোধের সেবাধর্ম ও মানবিক দায়িত্ববোধের প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন।
উক্ত সিনেমাটি সম্পূর্ণ সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে। এটি ২০০৮ সালের সেই রক্তক্ষয়ী ও বিভীষিকাময় রাতকে নতুনভাবে পর্দায় তুলে ধরবে, যেখানে কামা অ্যান্ড অ্যালবলেস হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও সাধারণ কর্মীরা অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে তাঁরা প্রায় ৪০০ জন নিরীহ রোগীকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন, যা বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। সমস্ত প্রতিকূলতা ও সাম্প্রদায়িক হিংসার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মানুষের জীবন রক্ষা করার এই লড়াই প্রতিটি জাতির মানবাধিকার রক্ষার এক নীরব আন্দোলন।
নতুন এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে কঙ্গনা রনৌত জানান, সমাজ বা রাষ্ট্র প্রায়ই বীরত্বকে বড় পরিসরে দেখে, কিন্তু প্রকৃত সাহস অনেক সময় নিঃশব্দে কাজ করে। সংকটের মুহূর্তে যারা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অন্যের জীবন বাঁচাতে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় এবং অপরের জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়ায়, এই গল্পটি মূলত তাঁদেরই। তাঁর মতে, এই সিনেমাটি শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং চরম সংকটেও মানবতা, আত্মত্যাগ ও ঐক্যের এক গভীর দলিল। মনোজ তাপাদিয়ার নিখুঁত রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ চলচ্চিত্রে কঙ্গনার পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন গিরিজা ওক, স্মিতা তাম্বে, অমৃতা নামদেভ, এষা দে, প্রিয়া বের্দে, আশা শেলার, সুহিতা থাত্তে, রসিকা আগাশে, আদিত্য মিশ্র এবং জাহিদ খানসহ আরও একঝাঁক গুণী শিল্পী।
আগামী ১২ জুন বিশ্বব্যাপী প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে যাচ্ছে অনন্য এই চলচ্চিত্রটি। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে কঙ্গনার একাধিক আলোচিত সিনেমা ‘ইমার্জেন্সি’, ‘তেজস’, ‘চন্দ্রমুখী ২’, ‘ধাকড়’ ও ‘থালাইভি’ বক্স অফিসে আশানুরূপ সাফল্য পায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে বড় কোনো বাণিজ্যিক সফলতা না থাকায়, মানবতার পক্ষে নির্মিত ‘ভারত ভাগ্য বিধাতা’ তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে এবং চলচ্চিত্র অঙ্গনে তাঁর অবস্থানকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা।