Screenshots are strictly prohibited on this page.
This action has been logged with your IP address.
লোহাগাড়ার উজিরভিটা কর্মকার পাড়ায় পৈতৃক বসতভিটা দখলের উদ্দেশ্যে ভ্রাতুষ্পুত্র শংকর মাস্টারের ধাক্কায় ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত ৮৫ বছর বয়সী সনাতনী বৃদ্ধ ফনিন্দ্র কর্মকারের বাম হাতে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হলেও তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক। বর্বরোচিত এই হামলার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী পরিবার আইনি ব্যবস্থা ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিলেও প্রভাবশালী শিক্ষক শংকর কর্মকার প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং মামলা না করতে পরিবারটিকে লাগাতার হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন। 'হিন্দুস নিউজ' ফলোআপ নিউজের #তৃতীয়_পর্ব।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের উজিরভিটা কর্মকার পাড়ায় পৈতৃক বসতভিটা থেকে এক প্রবীণ সনাতনীকে উচ্ছেদ করতে ভাইয়ের ছেলে শংকর কর্মকারের (প্রকাশ শংকর মাস্টার) বর্বর হামলা ও পৈশাচিক নির্যাতন থামেনি; বরং অপরাধ করার পরও সে বহাল তবিয়তে প্রকাশ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। গত ১১ জুন ২০২৬ তারিখে ছাদ থেকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার পর গুরুতর আহত ৮৫ বছর বয়সী সর্বজনশ্রদ্ধেয় প্রবীণ সনাতনী ফনিন্দ্র কর্মকার বর্তমানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এই বর্বরোচিত হামলার আদি বিবরণ থেকে জানা যায়, আক্রান্ত ফনিন্দ্র কর্মকার দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ওই এলাকায় সপরিবারে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছেন এবং প্রায় এক দশক পূর্বে তিনি নিজের জমিতে একটি পাকা ভবন নির্মাণ করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই শিক্ষক শংকর মাস্টার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ফনিন্দ্র কর্মকারের ঘর ঘেঁষে নতুন একটি ভবন নির্মাণ শুরু করেন এবং দাবি করেন যে ফনিন্দ্র কর্মকারের পাকা ভবনের ভেতরের ৬ ফিট জায়গা নাকি তাঁর নিজের। যেকোনো ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ ঘর নির্মাণের পূর্বেই উত্থাপন করার আইনি নিয়ম থাকলেও, শংকর কর্মকার কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে গায়ের জোরে জায়গা ছাড়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। প্রবীণ ফনিন্দ্র কর্মকার তখন পাড়ার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং জমির বৈধ কাগজপত্র নিয়ে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিলে শংকর মাস্টার তা চরম ঔদ্ধত্যের সাথে প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর বিগত কয়েকদিন ধরে ফনিন্দ্র কর্মকারের নিজস্ব বসতঘরের টিনের ছাউনি ঘেঁষে ভেতরে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ইটের দেওয়াল তুলতে শুরু করেন এবং তাঁদের নিজেদের ঘরের টিনের ছাউনি কেটে ফেলার নির্দেশ দেন। ঘটনার দিন ফনিন্দ্র কর্মকারের ঘরের চালের টিনের ছাউনি ভেঙে শংকর যখন তাঁর ইটের দেওয়াল আরও উঁচুতে তোলার চেষ্টা করছিলেন, তখন বৃদ্ধ ফনিন্দ্র কর্মকার এতে বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে শংকর মাস্টার ওই বৃদ্ধকে তাঁর নিজের ঘরের ছাদ থেকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন।