ভট্টাচার্যকে রড দিয়ে পেটায় ডাকাতেরা, ব্যাংক থেকে তোলা টাকা, স্বর্ণালংকার লুট
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২৭ আগস্ট ২০২৬, ১৩:২৯
111 জন পড়েছেন
চট্টগ্রামের পটিয়ায় এক ইউপি সদস্যের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতেরা ঘরে ঢুকে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ওই পরিবারের এক সদস্য অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে হাত-পা বেঁধে রড দিয়ে পেটানোর অভিযোগও উঠেছে।
গতকাল বুধবার দিবাগত রাত একটার দিকে পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা গ্রামে ইউপি সদস্য প্রবীর ভট্টাচার্যের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় প্রবীরের চাচা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বাবুল ভট্টাচার্যকে (৭৮) রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ডাকাতেরা। আহত বাবুল পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই)।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল রাতে প্রবীর ভট্টাচার্যের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর মেয়ে প্রসূতি। এ কারণে সবাই চট্টগ্রাম নগরের একটি ক্লিনিকে অবস্থান করছিলেন। তাঁর ঘরের পাশেই বাবুল ভট্টাচার্যের ঘর। গতকাল রাতে সাত থেকে আট সদস্যর মুখোশধারী লোক প্রবীর ভট্টাচার্যের বাড়ির তালা ভেঙে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে। বিষয়টি বাবুল ভট্টাচার্য দেখে ফেলেন। এরপর তাঁকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রবীর ভট্টাচার্যের ঘরে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে রশি দিয়ে বেঁধে রড দিয়ে পেটানো হয়।
জানতে চাইলে প্রবীর ভট্টাচার্য মুঠোফোনে বলেন, তাঁর মেয়ের প্রসবের কারণে পরিবারের সবাই চট্টগ্রামের একটি ক্লিনিকে ছিলেন। এ সুযোগে রাত একটার দিকে একদল লোক তাঁর পাকা ঘরের দরজার তালা কেটে ভেতরে ঢোকে। তারা ঘরের আলমারি ভেঙে ছয় ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা নিয়ে যায়। এর মধ্যে জমি কেনার জন্য দুই দিন আগে ব্যাংক থেকে তোলা চার লাখ টাকা ছিল। বাকি টাকা ঘরে রাখা ছিল।
প্রবীর ভট্টাচার্য বলেন, তাঁর ঘরের পাশে থাকেন কাকা বাবুল ভট্টাচার্য। গতকাল রাতে তাঁকে বেঁধে রেখে রড দিয়ে পেটানো হয়েছে।
বাবুল ভট্টাচার্য বলেন, ‘রাতের বেলা উঠানে বের হয়ে সাত থেকে আটজন অস্ত্রধারীকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা আমাকে জিম্মি করে মারধর শুরু করেন। তাঁরা মুখোশ পরা ছিলেন। মারধরের কারণে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলে গেছে। ডাকাতির পর অস্ত্রধারীরা আমাকে ছেড়ে দেয়।’
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সামা বিনতে সফিউল মুঠোফোনে বলেন, ‘আজ ভোরে মারধরে আহত বাবুল নামের একজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। তাঁর মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ছাড়া শরীরে আর কোনো স্থানে গুরুতর জখম দেখা যায়নি। তাই তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি চুরি বলে মনে হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।