পাশাপাশি চিতায় উঠল চার লাশ, স্তব্ধ শ্মসানপ্রাঙ্গন
দাহকার্যের সঙ্গে যুক্ত একজন বলছিলেন, তার জীবনে এ ধরনের দৃশ্য কখনও তিনি দেখেননি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৫৬
39 জন পড়েছেন
রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
স্বজনরা বলেন, রোববার রাত ৮টার দিকে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চারটি মরদেহ তাদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার নগরীর দখীগঞ্জ মহাশ্মশানে চারটি মরদেহ নিয়ে আসা হয়।
সেখানে চারজনকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। এরপর পর পর চারটি চিতায় চারজনের মরদেহ তোলা হয়। স্বজনরাই মুখাগ্নি করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে দাহকার্য শেষ হতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, চারজনকে চিতায় তোলার সময় সেখানে স্বজনদের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এ সময় পরিবারের বাইরেও যারা এসেছিলেন, তারাও চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
চিতায় আগুন দেওয়ার সময় স্বজনরা নিহতদের নাম ধরে বিলাপ করছিলেন। এর কিছুক্ষণ পর শ্মশানে এক অদ্ভূত নিরবতা নেমে আসে। চারদিক থেকে শুধু আগুনের কুণ্ডুলি দেখা যাচ্ছিল।
দাহকার্যের সঙ্গে যুক্ত একজন বলছিলেন, তার জীবনে এ ধরনের দৃশ্য কখনও তিনি দেখেননি। একই পরিবারের চারজনকে এক সঙ্গে দাহ করা অনেক কষ্টের।
দাহকাজ শেষে চিতায় জল দিয়ে চারজনের ‘অস্থি’ নিয়ে যান স্বজনরা। পরে আগুন ভালভাবে নেভানোর জন্য শ্মশানের দায়িত্বরতদের পাইপ দিয়ে ফের জল ঢালতে দেখা যায়।
শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তাদের শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের পর থেকে পরিবারটির সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে শনিবার রাতে বাসায় গিয়ে চারটি মরদেহ পায় পুলিশ।
দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা হলেন- মাছুয়াপাড়ার মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯)। রোববার ভোরে তাদের আটক করা হয়।
তিনি দাবি করেন, “মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস পাশের একটি ভবনের ওপর দিয়ে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে প্রবেশ করেন। সেখানে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রথমে গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে হত্যা করা হয় তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে।”