ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সুরক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর 'ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ'-এর স্মারকলিপি প্রদান
সবুজ দত্ত,
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত:
২৫ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩
25 জন পড়েছেন
দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শ্রী রাম ও ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি নির্মাণ সংক্রান্ত বিষয়ে সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতকরণের দাবিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে 'ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ'।
২৫ জুন, ২০২৫ইং (সূত্র: ২৫-০৬-০০৪) তারিখে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই স্মারকলিপিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পেশ করা হয়।
স্মারকলিপিতে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, মানুষের অধিকার এবং সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষের সমান মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার কথা উল্লেখ করা হয়। একই সাথে বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী ও মুণ্ডা সম্প্রদায়সহ সকল নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরিবারের ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করে বলা হয়, তাঁর পিতা বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবদান ও দেশের মানুষের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ স্মরণীয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান নেতৃত্বের ধারাক্রমকে দেশের গণতান্ত্রিক ধারায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে অবিহিত করা হয়।
১. গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পরিস্থিতি: সম্প্রতি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলায় ভগবান শ্রী রামচন্দ্র ও ভগবান বিষ্ণুর মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সাথে কিছু ব্যক্তির দ্বারা ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের প্রতিকৃতির অবমাননাকর কর্মকাণ্ড কোটি কোটি সনাতন মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে বলে স্মারকলিপিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।
২. সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা: বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং অনুচ্ছেদ ৪১ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালন, প্রচার ও অনুশীলনের যে মৌলিক অধিকার রয়েছে, তা শতভাগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
৩. আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের বাস্তবায়ন: জাতিসংঘের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের (UDHR) অনুচ্ছেদ ১ (সকল মানুষ মর্যাদা ও অধিকারের ক্ষেত্রে সমান) এবং অনুচ্ছেদ ২ (ধর্ম, বিশ্বাস বা পরিচয়ের কারণে বৈষম্য করা যাবে না) এর আলোকে সনাতন সম্প্রদায়ের অধিকার সমুন্নত রাখার আহ্বান জানানো হয়।
ঐক্যবদ্ধ সনাতনী সমাজ, বাংলাদেশ গভীর শ্রদ্ধা, প্রজ্ঞা ও দায়িত্ববোধের সাথে এই স্মারকলিপিটি পেশ করে এবং আশা প্রকাশ করে যে, একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার অনতিবিলম্বে এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।