মানিকগঞ্জে সিজারের পর প্রসূতির মৃত্যু: ভুল চিকিৎসার অভিযোগ, গা ঢাকা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
সাধন সূত্রধর
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৯
205 জন পড়েছেন
মানিকগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত ডেল্টা জেনারেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর নিপা রানী ঘোষ (২১) নামের এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) সকালে ঘটা এই ঘটনায় চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের স্বজনরা। ঘটনার পর থেকেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত চিকিৎসককে পাওয়া যাচ্ছে না।
নিহত নিপা রানী ঘোষ মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার সিংজুরী ইউনিয়নের চক বাস্তা গ্রামের রিপন কুমার ঘোষের স্ত্রী।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রসবের জন্য মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে নিপা ঘোষকে ডেল্টা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করেন গাইনি চিকিৎসক ডা. সঞ্চিতা। এ সময় অ্যানেস্থেসিয়া বা অজ্ঞান করার দায়িত্বে ছিলেন ডা. আবু বক্কর সিদ্দিক।
স্বজনদের দাবি, অপারেশনের কিছুক্ষণ পরেই রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। জটিলতা দেখা দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে রোগীকে মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নিপাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণেই এই অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার পরপরই হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত গাইনি চিকিৎসক ডা. সঞ্চিতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, পরিস্থিতির বেগতিক দেখে হাসপাতাল থেকে সটকে পড়েন ডেল্টা জেনারেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. জহির রায়হান আজরুল। ফলে তাদের কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম মোফাখখারুল ইসলাম জানান, ভুল চিকিৎসায় প্রসূতি মৃত্যুর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ তার দপ্তরে জমা পড়েনি। তিনি বলেন, “মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব নয়। তবে ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে, নবজাতকের মা নিপা রানীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকা ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।