দেশে বাড়ছে এইচআইভি, নতুন আক্রান্তের ৪২ শতাংশ তরুণ-তরুণী
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৩
1,854 জন পড়েছেন
বাংলাদেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে নতুন করে ১,৮৯১ জন এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং একই সময়ে ২১৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, নতুন শনাক্তদের ৪২ শতাংশই অবিবাহিত তরুণ-তরুণী। গত বছরের তুলনায় এই হার প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৪ সালে নতুন শনাক্তদের মধ্যে অবিবাহিতদের হার ছিল ৩১.৫ শতাংশ। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ দেখিয়েছে, এক বছরের ব্যবধানে এই সংক্রমণ তরুণদের মধ্যে দ্রুত বাড়ছে।
যশোরের সিভিল সার্জন মো. মাসুদ রানা জানান, জেলাটিতে ২০২৫ সালে ৫০ জনের বেশি এইচআইভি শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। তার মতে, এই বয়সের তরুণদের মধ্যে সচেতনতার তুলনায় কৌতূহল বেশি থাকে, যা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের দিকে ঠেলে দেয়।
সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনের কারণ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা তরুণদের মধ্যে এই সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন:
* কনডম ছাড়া যৌন সম্পর্ক এবং একাধিক সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন।
* ইনজেক্টেবল ড্রাগ ব্যবহারের সময় একই সুচ একাধিক ব্যক্তির মধ্যে ভাগাভাগি করা।
* সঙ্গীর স্বাস্থ্য অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞানতা এবং যৌন স্বাস্থ্য বিষয়ে তথ্যের অভাব।
* পরিবার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা না হওয়া।
ইউএনএইডস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সায়মা খান বলেন, “অবিবাহিত আক্রান্তদের বড় অংশের বয়স ২৫ বছরের নিচে। এই বয়সে রোমাঞ্চ ও ঝুঁকি নেয়ার প্রবণতা বেশি। সচেতনতার অভাবে তারা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে জড়িয়ে পড়ছে।”
মনস্তত্ত্ববিদ অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ মনে করেন, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তার তরুণদের আচরণে পরিবর্তন এনেছে, কিন্তু যথাযথ সচেতনতা বাড়ছে না। অন্যদিকে, এনজিও প্রতিনিধি রাসেল আহমেদ (ছদ্মনাম) জানিয়েছেন, সামাজিক ট্যাবুর কারণে অনেকেই সুরক্ষার বিষয়গুলো এড়িয়ে চলেন এবং আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকলেও লোকলজ্জার কারণে পরীক্ষা করাতে দেরি করেন।
সমাধানের পথ
ভাইরাসবিদ অধ্যাপক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, “এইচআইভি পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য নয়, তবে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধের মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রায় স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারেন এবং অন্যের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকিও কমাতে পারেন।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধুমাত্র চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। স্কুল পর্যায়ে প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্য শিক্ষার বিস্তার, ব্যাপক সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এখন সময়ের দাবি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এসব কার্যক্রমের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন জরুরি।