একটু সহায়তায় বাঁচতে পারে অভিজিত, ফিরতে পারে তার শৈশব
সার্ভিকো থোরাসিক স্কোলিওসিস রোগে আক্রান্ত অভিজিত। চিকিৎসায় প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ টাকা। দ্রুত অস্ত্রোপচার না করা হলে প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারে অভিজিত।
তুর্য দাস
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৭
166 জন পড়েছেন
যে বয়সে কাঁধে স্কুলব্যাগ ঝুলিয়ে সহপাঠীদের সঙ্গে হাসতে হাসতে স্কুলে যাওয়ার কথা, বিকেলে মাঠজুড়ে দৌড়ে বেড়ানোর কথা, স্বপ্ন বুনে বড় হওয়ার কথা- সেই ১২ বছরের অভিজিত লড়ছে এক জটিল ও বিরল রোগের সঙ্গে। আজ সে খেলার মাঠে নয়, শুয়ে আছে ভিনদেশের হাসপাতালের বিছানায়। যে ছোট্ট চোখে ভবিষ্যতের রঙিন স্বপ্ন ছিল, সেখানে এখন ভর করেছে ব্যথা, অনিশ্চয়তা আর বেঁচে থাকার আকুতি।
জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র অভিজিত চৌধুরী (১২)। বর্তমানে ভারতের চেন্নাইয়ের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অভিজিত সার্ভিকো থোরাসিক স্কোলিওসিস নামক জটিল রোগে আক্রান্ত। এ রোগে মেরুদণ্ডের ঘাড় ও বুকের মাঝামাঝি অংশ মারাত্মকভাবে বাঁকা হয়ে যায়। এতে তার স্বাভাবিক চলাফেরা, শারীরিক বৃদ্ধি এবং দৈনন্দিন জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করা হলে তার শারীরিক অবস্থা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, এমনকি স্থায়ী পঙ্গুত্বের ঝুঁকিও রয়েছে।
হাসপাতালের বেডে শুয়েও অভিজিতের একটাই আকুতি, আমি বাঁচতে চাই। আবার স্কুলে যেতে চাই, বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে চাই, বড় হয়ে ডাক্তার হতে চাই।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে প্রথমে অভিজিতের ঘাড় ও মেরুদণ্ডে ব্যথা শুরু হয়। শুরুতে সাধারণ ব্যথা মনে করে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানো হয়। কিন্তু ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। পরে সিলেটের অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ও ট্রমা সার্জন ডা. মো. বাকী বিল্লাহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানান, দেশে এই রোগের উন্নত চিকিৎসা অত্যন্ত কঠিন। পরে অভিজিতকে ভারতের চেন্নাইয়ের খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে রেফার করা হয়।
বর্তমানে অভিজিতের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। চিকিৎসকরা বলেছেন, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করা হলে সে প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারে। হাঁটাচলা, খাওয়া-দাওয়া এমনকি স্বাভাবিকভাবে বসে থাকাও তার জন্য অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে তার কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে, শরীরের ব্যথা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তার সাত ব্যাগ বি-পজিটিভ রক্তেরও প্রয়োজন।
জানা যায়, অভিজিত একজন স্বপ্নবাজ শিশু। নাটকে তার অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে অভিনয়ের জন্য পুরস্কারও পেয়েছে। গান, কবিতা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও তার আগ্রহ প্রবল। স্কুলের মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলতে তাকে সবসময় দেখা যেত। স্বপ্ন ছিল বড় হয়ে একজন ডাক্তার হবে। নিজের কষ্টের অভিজ্ঞতা থেকেই সে মানুষের সেবা করতে চায়।
অভিজিতের বাবা সুজিত কুমার চৌধুরী দীর্ঘ সাত বছর ধরে হৃদরোগে ভুগছেন। অসুস্থতার কারণে তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। প্রতি মাসে তার ওষুধের পেছনে প্রায় ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মা সম্পা রানী তালুকদার। তিনি ব্র্যাকের ক্ষুদ্র আয়ের একটি চাকরি করে কোনো রকমে সংসার চালিয়ে আসছেন।
দুই সন্তানের এই পরিবারটি আজ চরম অসহায়। একদিকে বাবার দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা, অন্যদিকে ছোট্ট ছেলের জীবন রক্ষাকারী অস্ত্রোপচারের বিপুল ব্যয়, সব মিলিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা।
অভিজিতের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে পরিবারের সহায়-সম্বল, এমনকি জমি-জমাও বিক্রি করতে হয়েছে। আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে ঋণও নিতে হয়েছে, তবুও প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান হয়নি।
অভিজিতের মামা সঞ্জয় তালুকদার বললেন, অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসার জন্য এরই মধ্যে প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে, আরও প্রয়োজন প্রায় ২০ লাখ টাকা। গত কয়েক দিনে সহৃদয় মানুষদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়েছে।
অভিজিতের মা সম্পা রানী তালুকদার বলেন, আমার ছেলেটা বাঁচতে চায়, ও আবার স্কুলে ফিরতে চায়। আমরা আমাদের সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছি, এখন সমাজের হৃদয়বান মানুষের সাহায্য ছাড়া ওর চিকিৎসা সম্ভব নয়।
বাবা সুজিত কুমার চৌধুরীর কণ্ঠেও একই আকুতি। বলছেন, আমার ছেলেকে বাঁচিয়ে দিন। ওর অনেক স্বপ্ন। আপনাদের সামান্য সহায়তাই ওর জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে।
অভিজিতের বাড়ি জেলার শাল্লা উপজেলার গুঙ্গিয়ারগাঁও ইউনিয়নের ডুমরা গ্রামে। একটু সহায়তা, একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে পারে। আপনার সামান্য অনুদানই অভিজিতের মুখে আবারও হাসি ফোটাতে পারে, তাকে ফিরিয়ে দিতে পারে স্বাভাবিক জীবন, স্কুলের বেঞ্চে ফেরার সুযোগ এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখার সাহস।
আসুন, সবাই মিলে অভিজিতের পাশে দাঁড়াই। আপনার সহযোগিতাই পারে একটি শিশুর জীবন বাঁচাতে এবং একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে।
সহায়তা পাঠানোর ঠিকানা
বিকাশ/নগদ (সঞ্জয় - মামা): ০১৭০৩-৭৬৪২২৮
বিকাশ/নগদ/রকেট (বিউটি- মাসি): ০১৭৩৯-৬৬৯৬০০
ব্যাংক হিসাব: পুবালী ব্যাংক লিমিটেড, জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ। হিসাবের নাম: সম্পা রানী তালুকদার, হিসাব নম্বর: ১৮৪৯১০১১৩৬৭৭০