হরিনাম সংকীর্তন ও ভক্তির আবহে রাঙ্গুনিয়ায় ‘বন্ধু পরিক্রমা উৎসব’ সমাপ্ত
সৌরভ সাহা
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
২২ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৭
25 জন পড়েছেন
হরিনামের ধ্বনি, খোল-করতালের ছন্দ আর ভক্তদের আবেগঘন উপস্থিতিতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘শ্রীশ্রী বন্ধু পরিক্রমা উৎসব-২০২৬’।
আনন্দ পুরুষোত্তম শ্রীশ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের ১৫৬তম শুভ আবির্ভাব তিথি উপলক্ষে ২১ থেকে ২৩ আগস্ট দক্ষিণ সাবেক রাঙ্গুনিয়ার শ্রীশ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু মহাউদ্বারণ মঠে অনুষ্ঠিত হয় এ ধর্মীয় উৎসব। মহানাম সেবক সংঘ, রাঙ্গুনিয়া শাখার আয়োজনে উৎসবে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্তরা অংশ নেন।
উৎসবের শুরুতেই গীতাপাঠের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন গীতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। পরে প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের আবির্ভাব তিথির স্মরণে প্রজ্বলন করা হয় ১৫৬টি মঙ্গল প্রদীপ।
মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মুহূর্তে পুরো মঠ প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় অপার্থিব ও ভক্তিময় পরিবেশ। আলো আর ভক্তির আবহে ভক্তদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি।
পরে অনুষ্ঠিত হয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাজীব সাহা ও অর্নব মল্লিকের বাদ্যযন্ত্রের সহযোগিতায় সংগীত পরিবেশন করেন গৌরভাবিনী সাহা, দীপক সাহা, অজয় চক্রবর্তী, কৌশিক সাহা, মিনাক্ষী চৌধুরীসহ অন্যান্য শিল্পী।
ভক্তিমূলক সংগীত ও ধর্মীয় পরিবেশনায় মঠ প্রাঙ্গণে সৃষ্টি হয় আনন্দঘন পরিবেশ।
দ্বিতীয় দিন ব্রাহ্মমুহূর্তে শুরু হয় শ্রীশ্রী তারকব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন ও মহানাম মহাকীর্তন। ফরিদপুর থেকে আগত মহানাম সম্প্রদায়ের কীর্তনীয়াদের পরিবেশনায় দিনভর হরিনামে মুখরিত থাকে মঠ প্রাঙ্গণ।
খোল ও করতালের তালে তালে ভক্তদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় হরিনাম। কীর্তনের সঙ্গে একাত্ম হয়ে নৃত্য ও সংকীর্তনে অংশ নেন অসংখ্য ভক্ত।
রাতে অনুষ্ঠিত হয় ঐতিহ্যবাহী চৌদ্দমাদল কীর্তন। কীর্তন শেষে ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।
উৎসবের শেষ দিনে অনুষ্ঠিত হয় নগর পরিক্রমা, দধি-হরিদ্রা ও পূর্ণাহুতি। হরিনাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে নগর পরিক্রমায় অংশ নেন বিপুলসংখ্যক ভক্ত।
হরিনামের ধ্বনি ও কীর্তনের সুরে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে মঠ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা। ধর্মীয় আবেগ ও ভক্তির সঙ্গে বিভিন্ন বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।
উৎসব কমিটির সভাপতি শ্রী দীপ্ত সাহা বলেন, প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের আবির্ভাব তিথি উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালন নয়। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে মানুষের মধ্যে প্রেম, মানবতা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির চেতনা ছড়িয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের লক্ষ্য।
তিনি আরো বলেন, “প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের মানবপ্রেম ও সম্প্রীতির বাণী সমাজে ছড়িয়ে দিতে আমাদের এ আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
ভক্তি, হরিনাম ও আধ্যাত্মিকতার আবহে তিন দিনব্যাপী নানা ধর্মীয় আয়োজন শেষে সমাপ্ত হয় ‘শ্রীশ্রী বন্ধু পরিক্রমা উৎসব-২০২৬’। উৎসব শেষে ভক্তদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়—‘জয় জগদ্বন্ধু হরি’।