বারদী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শংকর কুমার দে উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানান যে, তিরোধান উৎসবের সমস্ত আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে আসা অগণিত ভক্তদের জন্য আশ্রমের নিজস্ব হোস্টেল ও আশপাশের নিরাপদ স্থানে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, তিন দিনব্যাপী এই কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বিশেষ পূজা, অর্চনা, ঊষাকীর্তন, বাল্যভোগ, রাজভোগ বিতরণ, গীতা পাঠ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, বাবা লোকনাথের দিব্য জীবন ও বাণী নিয়ে আলোচনা এবং মনোজ্ঞ সন্ধ্যা কীর্তন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আত্মিক শান্তি ও বিশ্ব কল্যাণের প্রার্থনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সমগ্র বারদী।
তবে এই পুণ্য উৎসবের আবহকে কলুষিত করতে স্থানীয় একটি মহলের অশুভ তৎপরতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে সনাতনীদের এই পবিত্র তিরোধান উৎসবের পবিত্রতা রক্ষার্থে সরকারিভাবে মেলার ইজারা দেওয়া বন্ধ ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, এবার স্থানীয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে বারদী বাজার খেলার মাঠে জোরপূর্বক দোকানপাট বসিয়ে মোটা অঙ্কের খাজনা আদায়ের পাঁয়তারা চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, সনাতনীদের এই আধ্যাত্মিক উৎসবের আঙিনায় ঐতিহ্য ও পবিত্রতা ক্ষুণ্ণ করে প্রকাশ্যে অশ্লীল নৃত্য ও জুয়ার আসর বসানোর প্রস্তুতি চলছে বলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয়ে সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক করিম রহমান দাম্ভিকতার সুরে জানান যে, এবার মেলার ইজারা তিনিই নিয়েছেন এবং সেখানে সার্কাসের আয়োজন করা হয়েছে। অশ্লীলতার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি প্রশাসনকে ইঙ্গিত করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। পবিত্র ধর্মীয় উৎসবে এমন অপসংস্কৃতি ও অবৈধ বাণিজ্যিকীকরণের বিরুদ্ধে সনাতন সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন মহল।
এদিকে, সনাতনীদের এই অন্যতম বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসবের আইনশৃঙ্খলা ও সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষার্থে গতকাল মঙ্গলবার বারদী আশ্রম এলাকায় এক বিশেষ ব্রিফিং ও প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। তিনি ভক্তদের আশ্বস্ত করে বলেন, উৎসবের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় আশ্রম এলাকায় পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৬ শতাধিক সশস্ত্র সদস্য সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবেন। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং পাশ্ববর্তী মেঘনা নদীতে নৌ পুলিশ কড়া নজরদারি রাখছে। সনাতনীদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত হানে এমন কোনো অপ্রীতিকর বা অশুভ ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম সারোয়ার জানান, দূর-দূরান্ত থেকে আসা লোকনাথ ভক্তদের সার্বিক নিরাপত্তায় পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে, সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, লোকনাথ ভক্তদের জন্য সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পবিত্র উৎসবের আড়ালে অবৈধভাবে কোনো অপতৎপরতা বা অনৈতিক কিছু করার চেষ্টা করা হলে প্রশাসন কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।