মা বুড়াকালীর বিগ্রহে প্রাণ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে দামপাড়ায় দুই দিনব্যাপী ধর্মীয় মহোৎসব
জয় দাশ
রাউজান প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
২৭ জুন ২০২৬, ১২:৪৮
12 জন পড়েছেন
সনাতন ধর্মের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, ভক্তি ও শাস্ত্রীয় আচার-অনুষ্ঠানের সমন্বয়ে চট্টগ্রাম নগরের ওয়াসা এলাকার দামপাড়া মসজিদগলিস্থ শ্রীশ্রী বুড়াকালী মন্দিরে মা বুড়াকালীর বিগ্রহে প্রাণ প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী এক ব্যাপক ধর্মীয় মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ২৮ ও ২৯ জুন অনুষ্ঠিতব্য এ আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সকল ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের প্রতি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ধর্মীয় এ মহাযজ্ঞকে সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ও ভক্তদের আন্তরিক উদ্যোগে মা বুড়াকালীর নতুন বিগ্রহ প্রতিষ্ঠার এই শুভ আয়োজন সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। প্রাণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিগ্রহে দেবীশক্তির অধিষ্ঠান ঘটানো হবে, যা সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও পবিত্র একটি আচার হিসেবে বিবেচিত।
প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ২৮ জুন বিকেল ৪টায় মা বুড়াকালীর আগমন ও শুভ বরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। এ উপলক্ষে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী গোলপাহাড় মহাশ্মশান কালীবাড়ি থেকে দামপাড়া মসজিদগলি পর্যন্ত এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। শোভাযাত্রায় ভক্তবৃন্দ, সেবাইত, ধর্মীয় সংগঠনের সদস্য এবং বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করবেন। ঢাক-ঢোল, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও ধর্মীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রাটি নগরীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য আবহ সৃষ্টি করবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠানমালায় ভক্তিমূলক কীর্তন, সন্ধ্যা আরতি, সাহস ঢাকি, সাদাম ঢাকি এবং বিভিন্ন শাস্ত্রসম্মত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে ভক্তরা দেবীর প্রতি তাদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভক্তি নিবেদন করবেন। সন্ধ্যার পর মন্দির প্রাঙ্গণে বিশেষ প্রার্থনা ও মঙ্গল কামনায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাও সম্পন্ন হবে।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন ২৯ জুন সকালে শুরু হবে মূল ধর্মীয় কার্যক্রম। এদিন বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে মা বুড়াকালীর পূজা, বিগ্রহে প্রাণ প্রতিষ্ঠা, যজ্ঞ এবং বিশেষ পূজার্চনা অনুষ্ঠিত হবে। প্রাণ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠান সনাতন ধর্মীয় সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার মাধ্যমে বিগ্রহকে পূজার উপযোগী ও আধ্যাত্মিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়। ধর্মীয় বিধি-বিধান অনুসরণ করে সম্পন্ন হওয়া এ আচার অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক ভক্তের সমাগম ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে উপস্থিত ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে। আয়োজকদের মতে, মহাপ্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে সকলের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হবে, যা সনাতন ধর্মের অন্যতম শিক্ষা।
অনুষ্ঠানের পৌরোহিত্য করবেন বিশিষ্ট পুরোহিত নয়ন চক্রবর্তী। এছাড়া ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পাদনায় উপস্থিত থাকবেন পণ্ডিত শ্রী সুকান্ত চক্রবর্তী (ভোলা), শ্রী সাগর চক্রবর্তী, শ্রী বাপ্পা চক্রবর্তী, শ্রী অরূপ চক্রবর্তী বাবুল, শ্রী শান্ত চক্রবর্তী এবং শ্রী নিরব ভট্টাচার্য (সাগর)। তাঁদের শাস্ত্রজ্ঞান ও অভিজ্ঞতার আলোকে প্রাণ প্রতিষ্ঠা ও পূজার্চনার সকল কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা হবে।
আয়োজক কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং ভক্তদের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি জাগ্রত করার লক্ষ্যেও এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, ভক্তদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এদিকে অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মন্দির প্রাঙ্গণে সাজসজ্জা, আলোকসজ্জা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দলও দায়িত্ব পালন করবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে মা বুড়াকালী শক্তি, সাহস, মঙ্গল ও রক্ষার প্রতীক হিসেবে পূজিত হয়ে আসছেন। তাই মা বুড়াকালীর বিগ্রহে প্রাণ প্রতিষ্ঠার এই মহোৎসব ভক্তদের জন্য এক বিশেষ ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করছে। আয়োজকরা সকল ভক্ত, শুভানুধ্যায়ী ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে যথাসময়ে উপস্থিত থেকে এই পবিত্র আয়োজনের অংশীদার হওয়ার জন্য আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন।