Screenshots are strictly prohibited on this page.
This action has been logged with your IP address.
বাংলা ৯ আষাঢ় দেশজুড়ে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাৎসরিক উৎসব অম্বুবাচী উদযাপিত হয়েছে। ধরিত্রী মায়ের ঋতুমতী হওয়া ও বিশ্রামের এই বিশেষ সময়ে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের কামনায় ভক্তরা বিশেষ নৈবেদ্য ও প্রার্থনা নিবেদন করেন।
গতকাল দেশজুড়ে এক পরম ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান বাৎসরিক উৎসব অম্বুবাচী। বাংলা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (২৪ জুন ২০২৬) বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সনাতনী সংস্কৃতির আদি ঐতিহ্য মেনে এই বিশেষ ধর্মীয় পার্বণটি পালন করা হয়। লোকবিশ্বাস ও শাস্ত্রীয় মতে, আষাঢ় মাসে মৃগশিরা নক্ষত্রের তিনটি পদ শেষ হলে মহাবিশ্বের জননী ধরিত্রী মা ঋতুময়ী হন। জননী রূপী প্রকৃতির এই বিশেষ সময়কালকে সম্মান জানিয়ে এবং পৃথিবীর উর্বরতা রক্ষার্থে সনাতন সমাজ প্রতিবছর অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে অম্বুবাচী ব্রত পালন করে থাকে। মায়ের এই বিশ্রামের দিনগুলোতে প্রকৃতির প্রতি পরম শ্রদ্ধা জানিয়ে সনাতনীরা মাটিতে যেকোনো প্রকার লাঙল চালানো, খনন কার্য কিংবা নতুন ফসল রোপণ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকেন, যা মূলত প্রকৃতির অধিকার রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার এক অনন্য প্রাচীন মানবিক দৃষ্টান্ত। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
এই উৎসবকে কেন্দ্র করে সনাতনী মায়েরা ধরিত্রী মাতাকে সন্তুষ্ট করার জন্য ঘরে ঘরে নানা পদের পিঠা-পায়েস, সুস্বাদু ভাজি ও বড়া তৈরি করে পরম ভক্তিতে মায়ের উদ্দেশ্যে অর্পণ করেন। উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে তৈরি করা হয় দুধ, আনারস, পাকা আম ও দইয়ের এক চমৎকার পবিত্র মিশ্রণ, যা 'অম্বুবাচী' নামে পরিচিত এবং এই সময়ে তা মায়ের চরণে নিবেদন শেষে ভক্তদের মাঝে অমৃত সমান প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হয়। কৃষিপ্রধান এই জনপদে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং আগামী দিনের ফসলের ফলন যেন আশাতীত ভালো হয়, সেই কামনায় মায়ের শ্রীচরণে আকুল প্রার্থনা জানান সর্বস্তরের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।