পোমরায় স্বামী কৃষ্ণানন্দ গিরি মহারাজের ৮৩তম শুভ আবির্ভাব উৎসব উপলক্ষে অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ
সৌরভ সাহা
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
২১ মে ২০২৬, ০৫:০৬
57 জন পড়েছেন
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা এলাকায় দিব্যধামবাসী পরমারাধ্য গুরুদেব শ্রীশ্রীমৎ স্বামী কৃষ্ণানন্দ গিরি মহারাজের ৮৩তম শুভ আবির্ভাব উৎসব উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ ও ধর্মীয় মহোৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আগামী ৮ ও ৯ জুন ২০২৬, সোমবার ও মঙ্গলবার পোমরার বুড়ির দোকান এলাকায় শ্রী বাসুদেব চক্রবর্ত্তীর বাড়িস্থ উৎসব অঙ্গনে এ মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
এই ধর্মীয় আয়োজনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ভক্ত-অনুরাগী ও সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, গুরুদেবের শুভ আবির্ভাব উৎসবকে ঘিরে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বৃহৎ পরিসরে মহানামযজ্ঞ, হরিনাম সংকীর্তন, নগর কীর্তন, গুরুবন্দনা ও মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে দেশের বিভিন্ন এলাকার স্বনামধন্য কীর্তন ও ধর্মীয় সম্প্রদায়। এর মধ্যে রয়েছে শ্রী শ্রী শিব মন্দির কীর্তনীয়া সংঘ (পোমরা, রাসুলিয়া, চট্টগ্রাম), শ্রী শ্রী শচীরনন্দন সম্প্রদায় (সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম), শ্রী রাম সংঘ (রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম), শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ সম্প্রদায় (যশোর) এবং শ্রী শ্রী গোপালবাড়ি সম্প্রদায় (চট্টগ্রাম)। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে দুই দিনব্যাপী পুরো উৎসব অঙ্গন মুখরিত হয়ে উঠবে হরিনাম সংকীর্তন ও ভক্তিমূলক সঙ্গীতে।
২৪শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বাংলা, ৮ জুন সোমবার বিকাল ৪ ঘটিকায় নগর কীর্তন পরিক্রমার মাধ্যমে উৎসবের শুভ সূচনা হবে। নগর কীর্তনে শত শত ভক্ত অংশগ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। পরে সন্ধ্যায় মহানামযজ্ঞের অধিবাস, নামসংকীর্তন ও বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এদিন পৌরহিত্য করবেন পণ্ডিত শ্রী দীপক চক্রবর্তী।
২৫শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বাংলা, ৯ জুন মঙ্গলবার ব্রাহ্মমুহূর্তে মঙ্গলারতি ও গুরুবন্দনার মধ্য দিয়ে শুরু হবে অষ্টপ্রহরব্যাপী হরিনাম সংকীর্তন। দিনব্যাপী চলবে ভক্তিমূলক কীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা ও পূজা-অর্চনা। দুপুর ১ ঘটিকায় আনন্দ বাজারে আগত ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। উৎসবকে ঘিরে সাজানো হয়েছে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা। দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তদের জন্য রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থাও।
আয়োজকরা আরও জানান, মহানামযজ্ঞ ও হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে মানবকল্যাণ, বিশ্বশান্তি এবং সকলের মঙ্গল কামনা করা হবে। তারা ধর্মপ্রাণ সনাতনী সম্প্রদায়ের সকল মানুষকে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে মহোৎসবকে সফল করার জন্য আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন।