জামাইষষ্ঠী: ঐতিহ্য, পারিবারিক বন্ধন ও এক চিরন্তন পৌরাণিক কাহিনী
সৌরভ সাহা
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
১৯ জুন ২০২৬, ২২:১১
103 জন পড়েছেন
বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উৎসব জামাইষষ্ঠী আজও সমান গুরুত্ব ও আনন্দের সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে এ উৎসব উদযাপিত হয়। এদিন শাশুড়িরা জামাইকে বরণ করে নেন, আশীর্বাদ করেন এবং নানা ধরনের সুস্বাদু খাবারের আয়োজন করেন। অন্যদিকে, জামাইরাও রীতি অনুযায়ী শ্বশুরবাড়িতে উপহার নিয়ে যান।
সামাজিকভাবে এ উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হলো শ্বশুরবাড়ি ও বাপের বাড়ির মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় ও মধুর করে তোলা। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে উৎসবের আয়োজনের ধরনে পরিবর্তন এলেও এর ঐতিহ্য ও আবেগ আজও অটুট রয়েছে।
তবে জামাইষষ্ঠী পালনের পেছনে রয়েছে একটি প্রাচীন পৌরাণিক কাহিনি। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এক পরিবারে দুই পুত্রবধূ ছিল। তাদের মধ্যে ছোট বউটি ছিল অত্যন্ত লোভী। বাড়িতে ভালো কোনো খাবার রান্না হলে সে সবার অগোচরে তা খেয়ে ফেলত এবং পরে কালো বিড়ালের ওপর দোষ চাপাত। অথচ সেই বিড়ালকে মা ষষ্ঠীর বাহন হিসেবে মনে করা হয়।
বারবার নিজের বাহনের নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ায় মা ষষ্ঠী ক্রুদ্ধ হন এবং অভিশাপ দেন। এর ফলে ছোট বউয়ের জন্ম নেওয়া প্রতিটি সন্তান অল্প সময়ের মধ্যেই মারা যেতে থাকে। এভাবে তার সাত পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের মৃত্যু হয়।
সন্তান হারানোর শোকে একদিন ছোট বউ বনে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। তখন মা ষষ্ঠী বৃদ্ধার ছদ্মবেশে তার সামনে উপস্থিত হন এবং তার দুঃখের কারণ জানতে চান। ছোট বউ নিজের সব ভুল স্বীকার করে মা ষষ্ঠীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।
পরে মা ষষ্ঠী নিজের প্রকৃত রূপ ধারণ করে তাকে ক্ষমা করেন এবং জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে ভক্তিভরে তাঁর পূজা করার নির্দেশ দেন। ছোট বউ সেই নির্দেশ মেনে পূজা করলে আশীর্বাদস্বরূপ তার মৃত সন্তানরা পুনরায় জীবন ফিরে পায়।
জনশ্রুতি রয়েছে, সেই সময় থেকেই ষষ্ঠী পূজার মাহাত্ম্য মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে তা জামাইষষ্ঠী উৎসবের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাঙালি সংস্কৃতির এক অনন্য পারিবারিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়।