নেইমার অবসরের ইঙ্গিত, ২০২৬ বিশ্বকাপই হতে পারে শেষ মঞ্চ
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৬
221 জন পড়েছেন
২০০৯ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে সান্তোসের জার্সিতে পেশাদার ফুটবলে যাত্রা শুরু করেছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের পর আবার সেই সান্তোসেই ফিরেছেন তিনি। এবার সেখান থেকেই অবসরের ইঙ্গিত দিলেন এই ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই হয়তো ফুটবলকে বিদায় জানাতে পারেন।
ক্যারিয়ারজুড়ে ঘন ঘন চোট, দীর্ঘ পুনর্বাসন এবং বর্তমান ফিটনেস সমস্যাই তাকে এমন সিদ্ধান্তের কথা ভাবতে বাধ্য করছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সৌদি ক্লাব আল ছেড়ে শৈশবের ক্লাব সান্তোসে ফেরেন নেইমার। তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
গত মৌসুমে চোট নিয়েই খেলেছেন তিনি। সান্তোসকে অবনমন থেকে বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও শারীরিকভাবে বড় মূল্য দিতে হয়েছে। ডিসেম্বরে বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন। চলতি মাসের ১৬ ফেব্রুয়ারি ভেলো ক্লাবের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আবার মাঠে ফেরেন। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এখনো পুরোপুরি ফিট নন এবং সাবধানে খেলতে হচ্ছে।
২০২৬ বিশ্বকাপে খেলা তার বড় স্বপ্ন। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর চোটের কারণে তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলে আর খেলতে পারেননি। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পেলে জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ থাকবে। নেইমার নিজেও মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে নেইমার বলেন, “আগামী বছর কী হবে জানি না। সম্ভবত ডিসেম্বর এলে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারি। এখন শুধু এই বছরটাতেই মনোযোগ দিতে চাই।” তিনি আরও জানান, শেষ পর্যন্ত তার হৃদয়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমার জাতীয় দলের হয়ে ১২৮ ম্যাচে ৭৯টি গোল করেছেন। ইউরোপে এফসি বার্সেলোনা এর হয়ে ট্রেবল জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেন এবং পিএসজির হয়েও একাধিক শিরোপা জিতেছেন। তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া এই তারকা এবারও শেষবারের মতো বিশ্বমঞ্চে নিজেকে প্রমাণ করতে চান।
আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল ‘সি’ গ্রুপে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। যদি ডিসেম্বর মাসে অবসর নেন, তবে এর আগে বিশ্বকাপের মঞ্চেই হয়তো দেখা যাবে নেইমারের শেষ লড়াই।