ট্রফি না পেলেও ইতিহাসের মঞ্চে সূর্যবংশী: ১৫ বছর বয়সেই এক মৌসুমে পাঁচ পুরস্কারের নজির।
জয় দাশ
রাউজান প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
০১ জুন ২০২৬, ০২:২৫
125 জন পড়েছেন
আইপিএলের মতো বিশ্বের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টি–টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে দলীয় সাফল্যই সাধারণত সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু কখনো কখনো কোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এতটাই অসাধারণ হয়ে ওঠে যে শিরোপাজয়ীদের উচ্ছ্বাসও তার সামনে কিছুটা ম্লান হয়ে যায়। ২০২৬ সালের আইপিএলে সেই বিরল কীর্তিই গড়ে দেখিয়েছেন রাজস্থান রয়্যালসের ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক Vaibhav Suryavanshi।
দল হিসেবে রাজস্থান রয়্যালস ফাইনালে উঠতে পারেনি। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হেরে তাদের শিরোপা–স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। ফলে আইপিএলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ট্রফিটি স্পর্শ করার সুযোগও পাননি সূর্যবংশী। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের বিচারে পুরো আসরজুড়ে তিনি ছিলেন নিঃসন্দেহে সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক বিস্ফোরক পারফরম্যান্সে তিনি শুধু রেকর্ডই গড়েননি, নিজের নাম লিখিয়েছেন আইপিএলের ইতিহাসের বিশেষ এক অধ্যায়ে।
পুরো টুর্নামেন্টে ৭৭৬ রান করে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহকের স্বীকৃতি হিসেবে জিতেছেন অরেঞ্জ ক্যাপ। প্রতিপক্ষ বোলারদের ওপর অবিশ্বাস্য আধিপত্য বিস্তার করে ১৬ ইনিংসে ব্যাটিং করেছেন ২৩৭.৩০ স্ট্রাইক রেটে, যা তাঁকে এনে দিয়েছে ‘সুপার স্ট্রাইকার অব দ্য সিজন’ পুরস্কার। শুধু রান করেই ক্ষান্ত হননি, নিজের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে পুরো আসরে হাঁকিয়েছেন ৭২টি ছক্কা। ফলে ‘সুপার সিক্সেস অব দ্য সিজন’ পুরস্কারও গেছে তাঁর ঝুলিতে।
তবে এই তিনটি অর্জনের চেয়েও বেশি মর্যাদার দুটি পুরস্কার জয় করে সূর্যবংশী ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছেন। তিনি নির্বাচিত হয়েছেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে মূল্যবান খেলোয়াড় (এমভিপি) এবং সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় (বেস্ট ইমার্জিং প্লেয়ার)। আইপিএলের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ক্রিকেটার একই মৌসুমে এই দুই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার একসঙ্গে জয়ের কৃতিত্ব দেখালেন।
এখানেই শেষ নয়। প্রায় দেড় দশক আগে ২০১১ সালে Chris Gayle যে অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন, সূর্যবংশী সেই তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করেছেন। গেইলের পর তিনিই প্রথম ক্রিকেটার, যিনি একটি মৌসুমে একই সঙ্গে সর্বোচ্চ রান ও সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেটের মালিক হয়েছেন। আরও বড় কথা, এক আসরে ৭২টি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি গেইলের ৫৯ ছক্কার পুরোনো রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছেন।
ফাইনালে রাজস্থান রয়্যালসের উপস্থিতি না থাকলেও পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে বারবার ডাক পড়েছে সূর্যবংশীর নাম। একে একে পাঁচটি পুরস্কার গ্রহণ করতে গিয়ে যেন পুরো স্টেডিয়ামের নজর ছিল তাঁর দিকেই। এত অল্প বয়সে এমন অভূতপূর্ব সাফল্যের পরও তাঁর কথায় ছিল বিনয় আর সংযম।
এমভিপি নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি জানাতে গিয়ে সূর্যবংশী বলেন, “ভালো লাগছে, তবে সাক্ষাৎকার দেওয়ার কারণে কিছুটা চাপও অনুভব করছি। আমার জন্য এটি একটি গর্বের মুহূর্ত। আগামী মৌসুমেও ভালো করার চেষ্টা করব।”
নিজের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ব্যাটিং নিয়ে তিনি বলেন, “আমি আমার সহজাত খেলা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। বল যদি মারার মতো অবস্থানে থাকে, সেটির পুরো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করি। এভাবেই খেলি আমি।
এদিকে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত ফাইনালে Royal Challengers Bengaluru গুজরাটকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো আইপিএল শিরোপা জয়ের আনন্দে মাতে। কিন্তু শিরোপাজয়ীদের উৎসবের মাঝেও আলোচনার বড় অংশজুড়ে ছিলেন একজন কিশোর ব্যাটার। কারণ ট্রফি না জিতেও নিজের ব্যাটের জোরে তিনি জয় করেছেন কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর হৃদয় এবং গড়ে তুলেছেন এমন এক নজির, যা বহু বছর ধরে আইপিএলের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে পাঁচটি ব্যক্তিগত পুরস্কার, সর্বোচ্চ রান, সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট, সর্বাধিক ছক্কা এবং একাধিক রেকর্ড সব মিলিয়ে ২০২৬ আইপিএলকে নিজের করে নিয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। দলীয় সাফল্য থেকে বঞ্চিত হলেও ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট নিঃসন্দেহে উঠেছে তাঁর মাথাতেই।