ঋতুপর্ণার দুর্দান্ত অলিম্পিক গোলে সমতায় বাংলাদেশ, স্বস্তির বিরতিতে লাল-সবুজ
জয় দাশ
রাউজান প্রতিনিধি
প্রকাশিত:
০৩ জুন ২০২৬, ১১:৫২
71 জন পড়েছেন
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে নেপালের বিপক্ষে শুরুটা একেবারেই পরিকল্পনামাফিক হয়নি বাংলাদেশের। প্রতিপক্ষের ধারাবাহিক আক্রমণে চাপে পড়ে ম্যাচের মাঝপথেই পিছিয়ে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ঋতুপর্ণা চাকমার অসাধারণ এক অলিম্পিক গোলে সমতায় ফিরে স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত হাইভোল্টেজ এই সেমিফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নেপাল। বলের নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ সৃষ্টিতে তারা ছিল অনেকটাই এগিয়ে। বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে বারবার কঠিন পরীক্ষার মুখে ফেলতে দেখা যায় নেপালি ফুটবলারদের।
মাঝমাঠে প্রত্যাশিত ছন্দে দেখা যায়নি বাংলাদেশ অধিনায়ক মারিয়া মান্দাকে। তার স্বাভাবিক প্রভাবের অভাব কাজে লাগিয়ে নেপাল দ্রুতগতির আক্রমণে বাংলাদেশের ডিফেন্সে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। ফলে প্রথমার্ধের বড় একটি সময় ব্যস্ত থাকতে হয় বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে।
ক্রমাগত চাপের মুখে ২৩তম মিনিটে গোল হজম করে বাংলাদেশ। ডি-বক্সের ভেতরে সৃষ্ট জটিল পরিস্থিতিতে বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন ডিফেন্ডাররা। সেই সুযোগে নেপালের গিতা রানা বক্সের ডান প্রান্ত থেকে নেওয়া নিখুঁত কোনাকুনি শটে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা শুরু করে বাংলাদেশ। মাঝমাঠে নেপালের আধিপত্যের কারণে দুই প্রান্ত ব্যবহার করে আক্রমণ গড়ার কৌশল নেয় দল। তবে সুসংগঠিত নেপালি রক্ষণভাগ ভাঙতে বেশ সংগ্রাম করতে হচ্ছিল বাংলাদেশের আক্রমণভাগকে।
যখন মনে হচ্ছিল পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হবে, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন ঋতুপর্ণা চাকমা। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে কর্নার কিক থেকে সরাসরি বল জালে জড়িয়ে অসাধারণ এক অলিম্পিক গোল করেন তিনি। তার সেই দৃষ্টিনন্দন গোলে ১-১ সমতায় ফিরে উজ্জীবিত বাংলাদেশ।
ঋতুপর্ণার এই মুহূর্তের নৈপুণ্য শুধু ম্যাচে সমতা ফেরায়নি, বরং দ্বিতীয়ার্ধের জন্য দলকে নতুন আত্মবিশ্বাসও এনে দিয়েছে। ফাইনালে জায়গা করে নিতে এখন বাকি ৪৫ মিনিটে কঠিন লড়াইয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ। অন্যদিকে প্রথমার্ধে নিজেদের আধিপত্য দেখানো নেপালও জয় ছিনিয়ে নিতে সর্বোচ্চ শক্তি নিয়েই মাঠে নামবে।
প্রথমার্ধ শেষে স্কোরলাইন: বাংলাদেশ ১-১ নেপাল।