১৯৫০ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি, পবিত্র শিবরাত্রির দিনে এই তীর্থভূমিতেই সংঘটিত হয়েছিল ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস হিন্দু গণহত্যা।
ঐতিহাসিক তথ্যমতে, ১৯৫০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকেই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে হিন্দু বিরোধী দাঙ্গা ও গণহত্যা শুরু হয়, যা চট্টগ্রামে ছড়িয়ে পড়ে ১২ই ফেব্রুয়ারি থেকে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই হিন্দুদের মেলা বন্ধ করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ধর্মীয় আবেগের টানে তৎকালীন পূর্ব বাংলা, আসাম ও ত্রিপুরা থেকে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী সীতাকুণ্ডের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন।
১৪ই ফেব্রুয়ারি শিবরাত্রি উপলক্ষে তীর্থযাত্রীরা চট্টগ্রামে পৌঁছাতে শুরু করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় তথ্যানুযায়ী, সেদিন সন্ধ্যা থেকেই আনসার বাহিনী ও স্থানীয় দুর্বৃত্তরা নিরস্ত্র তীর্থযাত্রীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, ১৪ তারিখ সন্ধ্যার মধ্যেই সেখানে উপস্থিত বহু তীর্থযাত্রীকে হত্যা করা হয়।
পরদিন, অর্থাৎ ১৫ই ফেব্রুয়ারি (মূল শিবরাত্রি) ভয়াবহতা চরম আকার ধারণ করে। ট্রেন যোগে সীতাকুণ্ড স্টেশনে নামার সাথে সাথেই তীর্থযাত্রীদের ওপর নির্বিচারে আক্রমণ চালানো হয়। ট্রেনের কামরায় খুঁজে খুঁজে এবং স্টেশনে নামিয়ে হাজার হাজার হিন্দু পুণ্যার্থীকে হত্যা করা হয়। স্টেশন চত্বর ও সংলগ্ন এলাকা পরিণত হয় বধ্যভূমিতে। হত্যার পর স্টেশন সংলগ্ন হিন্দু বসতবাড়িগুলোতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় জনশ্রুতির ভিত্তিতে জানা যায়, সেসময় কেবল মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড এলাকাতেই প্রায় ১৫ থেকে ২৫ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। মহাদেবের পূজার জন্য আনা কাঁচা দুধ ও গঙ্গাজলের পরিবর্তে সেদিন সীতাকুণ্ডের মাটি ভিজেছিল নিরীহ মানুষের রক্তে।
সময়ের বিবর্তনে ১৯৫০-এর সেই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস আজ অনেকটাই বিস্মৃত। বর্তমান প্রজন্মের কাছে সেই হাহাকার আর আর্তনাদ আজ আর পৌঁছায় না। পবিত্র তীর্থভূমি সীতাকুণ্ড সেদিন পরিণত হয়েছিল এক বিশাল বধ্যভূমিতে, যা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেছে।
তথ্যসূত্র ও ছবি: সংগৃহীত (দিতি ভট্টাচার্য)