আগুনে পুড়ে ছাই ঐতিহাসিক ধামরাইয়ের রথ
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৮
5,227 জন পড়েছেন
বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান প্রতীক ধামরাইয়ের শ্রী শ্রী যসোমাধবের রথ। কিন্তু এই রথের ইতিহাসের পাতায় জড়িয়ে আছে ১৯৭১ সালের এক ভয়াবহ ও কলঙ্কিত অধ্যায়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসররা বাঙালির এই শতবর্ষী ঐতিহ্যকে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছিল।
অভিশপ্ত সেই ৯ এপ্রিল:
১৯৭১ সালের ৯ এপ্রিল ছিল ধামরাইবাসীর জন্য এক বিভীষিকাময় দিন। ঐতিহাসিক নথিপত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, ওই দিন সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর একটি দল স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় ধামরাই রথখোলায় হানা দেয়। তারা সে সময়ের দৃষ্টিনন্দন ও বিশালাকার ৫ তলা বিশিষ্ট প্রাচীন কাষ্ঠনির্মিত রথটিতে গানপাউডার ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুহূর্তের মধ্যেই ভস্মীভূত হয় উপমহাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই স্থাপত্য নিদর্শন।
স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের অপূরণীয় ক্ষতি:
পুড়িয়ে দেওয়ার সময় রথটি ছিল প্রায় ৬০ থেকে ৮০ ফুট উচ্চতার। মূল্যবান সেগুন কাঠ ও সুনিপুণ কারুকার্যখচিত রথটি ছিল বাঙালির সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। পাকিস্তানি বাহিনী মূলত বাঙালির সাংস্কৃতিক মেরুদণ্ড ও ধর্মীয় চেতনাকে আঘাত করার লক্ষ্যেই এই বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছিল।
ধ্বংসস্তূপ থেকে পুনরুত্থান:
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রথযাত্রা উৎসবের ধারাবাহিকতা রক্ষায় দীর্ঘ সময় বাঁশ ও কাঠের তৈরি অস্থায়ী রথ ব্যবহার করা হতো। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, ২০১০ সালে ভারত সরকারের আর্থিক সহায়তায় ৪২ ফুট উচ্চতার বর্তমান লোহার কাঠামোর তিন তলা বিশিষ্ট স্থায়ী রথটি নির্মাণ করা হয়।
যদিও নতুন রথ দিয়ে এখন প্রতিবছর অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে রথযাত্রা উদযাপিত হয়, তবুও একাত্তরের সেই ৯ এপ্রিলের অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি আজও ধামরাইবাসীর মনে গভীর ক্ষত হিসেবে রয়ে গেছে। বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের ওপর সেই আঘাত আজও ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে।