নাসিকে লাভ জিহাদ রুখতে ‘ঘর ওয়াপসি’ কর্মসূচিতে হিন্দু ধর্মে ফিরল ১.৫৬ লক্ষ পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
১৪ জুন ২০২৬, ০০:৫৯
892 জন পড়েছেন
নাসিকে লাভ জিহাদ রুখতে চলছে ঘর ওয়াপসি কর্মসূচি। (Ghar Wapsi)জগদগুরু রামানন্দাচার্য নরেন্দ্রাচার্য মহারাজ স্পষ্টভাবে বলেছেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের কিছু অংশ লাভ জিহাদের নামে হিন্দু সমাজকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাঁরা ‘ঘর ওয়াপসি’ কর্মসূচি শুরু করেছেন। এখন পর্যন্ত ১ লক্ষ ৫৬ হাজার পরিবারকে হিন্দু ধর্মে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মহারাজ। তিনি আরও বলেন, “তারা আসলে হিন্দুই, অন্য কেউ নয়।
ভুলে গিয়েছিল, পথভ্রষ্ট হয়েছিল, আমরা তাদের ফিরিয়ে এনেছি নিজের ধর্মে।”এই বক্তব্য ঘিরে ধর্মীয় ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। নাসিকের এক অনুষ্ঠানে মহারাজ বলেন, ধর্মান্তরণের মাধ্যমে হিন্দু সমাজের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কাঠামোকে দুর্বল করার একটি সুপরিকল্পিত প্রচেষ্টা চলছে। বিশেষ করে আন্তঃধর্মীয় প্রেম ও বিয়ের ক্ষেত্রে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এর প্রতিরোধে ঘর ওয়াপসি অর্থাৎ যারা পূর্বপুরুষের ধর্ম ছেড়ে অন্য ধর্মে চলে গিয়েছিলেন, তাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।মহারাজের মতে, যারা ফিরে এসেছেন তারা কেউ বাইরের লোক নন। তাঁরা হিন্দু পরিবারের সন্তান, যারা বিভিন্ন কারণে ধর্মান্তরিত হয়েছিলেন। কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের পুনরায় হিন্দু সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। এই উদ্যোগে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, শিক্ষা ও সামাজিক সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
এই দাবি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। হিন্দু সংগঠনগুলো এই কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁরা বলছেন, এটি সাংস্কৃতিক পুনরুজ্জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অনেকে মনে করেন, ধর্মান্তরণের বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ানো এবং যারা ফিরে আসতে চান তাদের সহায়তা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ও শহরের নিম্নবিত্ত সমাজে ধর্মান্তরণের ঘটনা বেশি ঘটছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
অন্যদিকে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও কিছু সমাজকর্মী এই বক্তব্যকে বিতর্কিত বলে মনে করছেন। তাঁরা দাবি করেন, লাভ জিহাদ একটি অপপ্রচার। দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মধ্যে সম্মতিপূর্ণ বিয়েকে ধর্মীয় ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। কেউ কেউ বলছেন, ঘর ওয়াপসি কর্মসূচির নামে চাপ প্রয়োগ বা প্রলোভন দেখানোর অভিযোগও উঠেছে অতীতে। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত পছন্দের প্রশ্নে এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।