মুসলিম থেকে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ, ১৬ বছরের অপেক্ষার পর সমীরুদ্দিন এখন সমীর রায়
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২২ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৫
303 জন পড়েছেন
কলকাতার লেডি ডাফরিন ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের কর্মী সমীরুদ্দিন মোল্লা দীর্ঘ ১৬ বছরের প্রচেষ্টার পর আইনগতভাবে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেছেন। আদালতে এফিডেভিট সম্পন্ন করে তিনি এখন সমীর রায় নামে পরিচিত।
হুগলি জেলার চুঁচুড়ার বাসিন্দা ৪৬ বছর বয়সী সমীর রায় জানান, হিন্দু ধর্মের দর্শন, আচার-অনুষ্ঠান ও জীবনদর্শনের প্রতি দীর্ঘদিনের আকর্ষণ থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মের ‘পঞ্চভূত’ তত্ত্ব এবং মৃত্যুর পর দাহক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরকে প্রকৃতির কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ধারণা তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
সমীর রায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রথম ২০১০ সালে হিন্দু ধর্ম গ্রহণের জন্য আদালতের দ্বারস্থ হন। তবে সে সময় আদালত থেকে তাকে জানানো হয়, ধর্মান্তরের ক্ষেত্রে কোনো আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় ব্যক্তির প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হবে। পরে লেডি ডাফরিন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কৃষ্ণা বালার সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি এ বিষয়ে সহযোগিতা পান। ডা. কৃষ্ণা বালা ইসকনের একটি বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে সমীরের জীবনযাপন ও ধর্মীয় অনুশীলন পর্যবেক্ষণের পর তিনি প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন।
সমীর রায় জানান, তাঁর মা রূপা অধিকারী ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। বিয়ের পর তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে পারভিন রোজি নাম ধারণ করেন। অন্যদিকে তাঁর বাবা আলিবোর্দিন মোল্লা ছিলেন মুসলিম।
সমীরের দাবি, ছোটবেলা থেকেই তিনি হিন্দু ধর্মীয় রীতি-নীতি ও পূজা-পার্বণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি বলেন, “দিদার বাড়িতে লক্ষ্মীপূজার অনেক কাজ আমিই করতাম। হিন্দু ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান আমার সবসময় ভালো লাগত। আমি চাই মৃত্যুর পর আমার দাহক্রিয়া সম্পন্ন হোক। কিন্তু নাম ও পরিচয়ের কারণে তা সম্ভব হতো না। সেই কারণেই ধর্ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
দীর্ঘ আইনি ও সামাজিক প্রক্রিয়া শেষে ধর্মান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সমীর রায়। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও জীবনদর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।