ক্ষুধা লাগলেই মায়ের সমাধির পাশে খালি থালা নিয়ে ছুটে আসেন প্রতিবন্ধী দিলীপ
১০ টাকার সহায়তার আকুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২২ আগস্ট ২০২৬, ১১:৪৮
42 জন পড়েছেন
বরগুনার বেতাগী উপজেলার অসহায় ও প্রতিবন্ধী দিলীপ দাসের জীবনে নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা। ক্ষুধা পেলেই খালি থালা হাতে মায়ের সমাধির কাছে ছুটে যান তিনি। সেখানে বসে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘মা, খুদা লাগছে, কী খাব?’
দিলীপ দাস ছোটবেলাতেই হারিয়েছেন বাবাকে। এরপর তাঁর জীবনের একমাত্র অবলম্বন হয়ে সংসারের হাল ধরেছিলেন মা। দীর্ঘদিন ধরে অসহায় ছেলেকে আগলে রেখেছিলেন তিনি। কিন্তু প্রায় ১০ দিন আগে সেই মায়েরও মৃত্যু হয়েছে। মাকে হারিয়ে এখন সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছেন প্রতিবন্ধী দিলীপ।
স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মায়ের মৃত্যুর পর থেকে দিলীপের দেখভাল করার মতো নির্ভরযোগ্য কেউ নেই। খাবারের জন্যও তাঁকে অন্যের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে মায়ের শ্রাদ্ধ-শান্তির আয়োজন। আগামী তিন দিনের মধ্যে মায়ের শ্রাদ্ধ-শান্তির কাজ সম্পন্ন করার কথা থাকলেও এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ তাঁর কাছে নেই।
এ অবস্থায় অসহায় দিলীপ দাসের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের প্রতি সহযোগিতার আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁর পক্ষ থেকে সামর্থ্য অনুযায়ী ১০ টাকা করেও সহায়তা করার আকুতি জানানো হয়েছে, যাতে অন্তত মায়ের শেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতাগুলো সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।
শুধু শ্রাদ্ধ-শান্তির কাজ শেষ করাই নয়, দিলীপের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তিনি যেন পরবর্তীতে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হাত পেতে খাবার চাইতে বাধ্য না হন, সে জন্য একটি গাভী কিনে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। একটি গাভী তাঁর জন্য ভবিষ্যতে আয়ের উৎস হতে পারে এবং নিজের খাবারের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে কিছুটা স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
দিলীপের এই অসহায় অবস্থার কথা জানার পর স্থানীয়দের পাশাপাশি মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। সামর্থ্য অনুযায়ী ছোট কিংবা বড় যেকোনো সহায়তা তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দিলীপ দাসের জন্য সহায়তা পাঠাতে বিকাশ ও নগদ নম্বর ০১৭২৫৫৭৯৯৯৯৪ এবং রকেট নম্বর ০১৮৪৫৩০৬৪৭৯ দেওয়া হয়েছে।
একজন বাবাহারা ও প্রতিবন্ধী মানুষ মাকে হারিয়ে এখন যখন চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তখন তাঁর পাশে দাঁড়ানোই হতে পারে মানবিকতার সবচেয়ে বড় পরিচয়। মায়ের সমাধির পাশে যেন ক্ষুধার যন্ত্রণায় আর খালি থালা হাতে বসে থাকতে না হয়—এই প্রত্যাশায় দিলীপের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীরা।