প্রতিবছর ২১ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত আন্তর্জাতিক যোগ দিবস মূলত ভারতের প্রাচীন সনাতন জীবনপদ্ধতি ও যোগচর্চার প্রতি বৈশ্বিক স্বীকৃতির এক পরম প্রতীক। শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক পূর্ণতা অর্জনে যোগব্যায়ামের ভূমিকা আজ সর্বজনবিদিত, যা বিশ্বমানবতাকে এক সুতোয় বেঁধে সব জাতির সার্বিক কল্যাণে ভূমিকা রাখছে। এবারের যোগ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘যোগা ফর হেলদি এজিং’, যা জীবনের প্রতিটি স্তরে দীর্ঘায়ু লাভ, সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং মানসিক ভারসাম্য ও আত্মিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতে যোগব্যায়ামের অপরিহার্য ভূমিকার ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং মানুষের ভেতরের ঐশ্বরিক চেতনার জাগরণ ঘটিয়ে কীভাবে একটি সুস্থ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব, যোগের এই কল্যাণময় দর্শনে তা সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
এই আধ্যাত্মিক ও স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক মহাসমাবেশের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘কমন যোগা প্রটোকল’ (সিওয়াইপি) সেশন, যেখানে উপস্থিত হাজারো মানুষ এক পরম শান্তিময় আবহে যোগাসনে মগ্ন হন। আইজিসিসির বিশিষ্ট যোগ প্রশিক্ষক শাহনাজ পারভীন এবং তাঁর সুযোগ্য শিক্ষার্থীদের সুচারু পরিচালনায় এই সেশনটি সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক অংশগ্রহণকারী অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এবং গভীর উৎসাহের সঙ্গে নবীন ও মধ্যম স্তরের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন যোগাসন, প্রাণায়াম এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের আধ্যাত্মিক ব্যায়ামগুলো অনুশীলন করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য ও ঐতিহ্যবাহী যোগ প্রতিষ্ঠানের সাধক ও সদস্যরা অত্যন্ত চমৎকারভাবে যোগব্যায়াম প্রদর্শন করেন, যার মধ্যে জয়সান যোগা, হু আর্ট অব যোগা, সেলফ হিলিং হাব, আর্ট অব লিভিং, এভারগ্রিন যোগা স্কুল, নটর ডেম যোগা অ্যান্ড মেডিটেশন ক্লাব, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন এবং ব্রহ্মাকুমারীসের ‘দ্য একাডেমি অব এ বেটার Wurld’ অন্যতম। তাঁদের এই নান্দনিক ও প্রাণবন্ত পরিবেশনা প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশে প্রাচীন সনাতন ঘরানার এই যোগচর্চার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন কতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এবারের আয়োজনে সনাতন ঐতিহ্যের অন্যতম প্রাচীন চিকিৎসাবিজ্ঞানকে তুলে ধরতে যুক্ত হয়েছিল এক বিশেষ আকর্ষণ ‘আয়ুর্বেদ লাউঞ্জ’। মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ও রোগমুক্ত জীবনের জন্য প্রকৃতির সান্নিধ্য ও আয়ুর্বেদের উপযোগিতা সম্পর্কে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই চমৎকার উদ্যোগ নেওয়া হয়। লাউঞ্জটিতে দ্য আয়ুর্বেদা মেডিক্যাল অ্যান্ড রিসার্চ, ঔষধি ল্যাবরেটরিজ এবং ওশিন ন্যাচারালস পৃথক পৃথক আকর্ষণীয় কিয়স্ক স্থাপন করে আগত দর্শনার্থীদের সম্পূর্ণ ভেষজ ও ঐতিহ্যবাহী আয়ুর্বেদভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে অত্যন্ত মূল্যবান তথ্য প্রদান করে। এর পাশাপাশি ভারতীয় হাইকমিশনের সমৃদ্ধ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত প্রাচীন ও আধুনিক আয়ুর্বেদবিষয়ক দুর্লভ বইসমূহ জনসাধারণের প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়, যা জ্ঞানপিপাসুদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটির এই মূল মহাসমারোহটি ছিল আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী পরিচালিত সুদীর্ঘ ও ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের এক সফল সমাপনী আয়োজন। উল্লেখ্য, গত ৬ মে আয়োজিত একটি বিশেষ কার্টেন-রেইজার কর্মসূচির মাধ্যমে এই বছরব্যাপী প্রচারণার শুভ সূচনা হয়েছিল। এর পর থেকে আইজিসিসি ও ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশের বিভিন্ন যোগ প্রতিষ্ঠান, শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ও খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশজুড়ে ৩৬টিরও বেশি প্রাক-অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত যোগের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার এই মহতী উদ্যোগ মানুষের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মানবাধিকার রক্ষায় অনন্য ভূমিকা রাখছে। এই বর্ণাঢ্য উৎসবটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে মারিকো বাংলাদেশ, টাটা মোটরস, নিটল মোটরস, বসুন্ধরা গ্রুপ, অশোক লেল্যান্ড, আইএফএড, জায়া গোল্ড, রয়্যাল গোল্ড, পিএন কম্পোজিট, প্রবৃদ্ধি অ্যাপারেলস, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বাংলাদেশ এবং ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড আন্তরিকভাবে সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করেছে। আয়োজক ও সুধীসমাজের মতে, এই সফল আয়োজন যোগব্যায়ামকে সামাজিক সম্প্রীতি, সর্বজনীন সুস্বাস্থ্য ও মানবতার সামগ্রিক কল্যাণের এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে আবারও প্রতিষ্ঠিত করল।