সাক্ষাৎকার চলাকালীন পুরোহিত প্রতিনিধিদলটি ডেপুটি স্পীকারের কাছে তাঁদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার কথা তুলে ধরেন। তাঁরা উল্লেখ করেন যে, হিন্দু সম্প্রদায় হিসেবে অনেক সময় তাঁরা প্রান্তিক অবস্থানে থাকলেও বর্তমান ডেপুটি স্পীকারের আন্তরিকতায় তাঁরা দুর্গাপুরের উন্নয়নে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ডেপুটি স্পীকারকে অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে ‘রাজা’ সম্বোধন করেন এবং তাঁর মঙ্গল কামনায় পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ করে আশীর্বাদ প্রদান করেন। এসময় তাঁরা ডেপুটি স্পীকারকে একটি বিশেষ ‘উত্তরণী’ উপহার দেন এবং মন্দিরের সংস্কার, পুরোহিত ভাতা চালুসহ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য তাঁকে সাদর আমন্ত্রণ জানান।
ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পুরোহিতদের কথা অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে শোনেন এবং তাঁদের সার্বিক কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, এলাকার মন্দিরের জন্য বরাদ্দ প্রদানে কোনো প্রকার অবহেলা বা বৈষম্য করা হবে না। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মসজিদ, মন্দির ও গির্জার জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উন্মুক্ত রাখা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অতীতে রাষ্ট্রীয় সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে দলীয় সংকীর্ণতা দেখা গেলেও তিনি সকল ভেদাভেদ ভুলে দলমত নির্বিশেষে সবার পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ডেপুটি স্পীকার বলেন যে, মানুষের পরিচয় ধর্ম দিয়ে নয়, বরং মানবতা দিয়ে। সবার রক্ত লাল এবং সবাই আমরা বাংলাদেশি—এই চেতনাকে ধারণ করেই কাজ করতে হবে। তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন ধর্ম ও পেশার মানুষকে পর্যায়ক্রমে সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ করে দিচ্ছেন যাতে সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রীয় কাজ সম্পর্কে সরাসরি ধারণা লাভ করতে পারেন। ইতিপূর্বে খ্রিষ্টান, ইমাম, হাজং সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এই সুযোগ পেয়েছেন।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন বীরেশ্বর চক্রবর্তী, মিন্টু ভাদুরী, অপরেশ চক্রবর্তী, গৌতম চক্রবর্তী, বিমল চৌধুরী, উৎপল শর্মা, রতন শর্মা, সুজয় শর্মা, মানিক চক্রবর্তী, কেশব লাল চক্রবর্তী, সজয় চক্রবর্তী এবং সমরেশ চক্রবর্তী। প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দুর্গাপুরের সন্তান হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে গুরুত্বপূর্ণ এই সাংবিধানিক পদে পাওয়ায় তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সবশেষে ডেপুটি স্পীকার তরুণ প্রজন্মকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষা করতে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও নিজস্ব সংস্কৃতিচর্চায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।