বেতাগীতে মন্দিরে মন্দিরে লুণ্ঠনরাজ: ২ সপ্তাহে ৯ চুরি, দেবতার অলঙ্কার ও বিগ্রহ লুটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা
অর্পন কর্মকার
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত:
১৭ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৯
93 জন পড়েছেন
বরগুনার বেতাগী উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের পবিত্র উপাসনালয় ও মন্দিরগুলোতে অব্যাহত চুরির ঘটনায় স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। গত মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পৌর শহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে অন্তত ৯টি গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরে চুরির দুঃসাহসিক ঘটনা ঘটেছে। পবিত্র বিগ্রহ চুরি ও মন্দিরের সম্পদ লুণ্ঠনের এই ধারাকে স্থানীয়রা কেবল সাধারণ চুরি হিসেবে নয়, বরং হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অস্তিত্বের ওপর এক সুপরিকল্পিত আঘাত হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে পৌর শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শ্রীগুরু সংঘের মন্দির এবং তার একদিন পরই অবধূত মন্দিরে হানা দেয় দুর্বৃত্তরা। এর পাঁচ দিন আগে বেতাগী সদর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ধোপাবাড়ি সর্বজনীন রাধাগোবিন্দ মন্দিরেও নারকীয় তণ্ডব চালানো হয়। দুর্বৃত্তরা মন্দিরের অতি পবিত্র রাধাকৃষ্ণ বিগ্রহসহ কাঁসর ঘণ্টা, ধূপদানি, প্রদীপ এবং পূজার মূল্যবান সামগ্রী লুটে নিয়েছে।
বেতাগী পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কৃষ্ণ কর্মকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "গভীর রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতকারীরা মন্দিরে প্রবেশ করে দেব-দেবীর গহনা, বিগ্রহ এবং দানবাক্সের অর্থ নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি মন্দিরের দরজা-জানালা ভেঙে এই লুটপাট চালানো হচ্ছে। এটা অত্যন্ত পরিকল্পিত।"
পৌর শহরের মতো জায়গায় এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাংলাদেশ সেবাশ্রমের বেতাগী শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) মনোরঞ্জন বড়াল উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "শহরের কেন্দ্রস্থলে যদি মন্দিরের বিগ্রহ নিরাপদ না থাকে, তবে আমরা কোথায় যাব? আমরা অনতিবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং প্রতিটি মন্দিরে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।"
পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, মন্দিরে বারবার এই আঘাত কেবল সম্পদের ক্ষতি নয়, বরং এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার এক গভীর ষড়যন্ত্র। তারা মনে করেন, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
এ বিষয়ে বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে বারবার মন্দির টার্গেট হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সনাতনীদের মনে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।