হিন্দুস নিউজ
সর্বশেষ

পূজা-২০২৬

সিঁদুর খেলতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তন্নি দে

বিয়ের মাত্র চার মাস, নতুন সংসারের স্বপ্ন ও বাবার বাড়িতে প্রথম দুর্গোৎসবের আনন্দ এক নিমেষেই বিষাদে পরিণত হয়েছে। বিজয়া দশমীতে দেবীর কপালে সিঁদুর দিতে গিয়ে আকস্মিক অসুস্থ হয়ে তন্নি দে (২০) নামের এক নববধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সার্বজনীন প্রতিমা বিসর্জনস্থলে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। তার এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার কুমিরা গ্রামে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।নিহত তন্নি দে কুমিরা গ্রামের মহাদেব দের একমাত্র মেয়ে। প্রায় চার মাস আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর বাবার বাড়িতে এটিই ছিল তার জীবনের প্রথম দুর্গোৎসব।স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় ননদের সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনস্থলে যান তন্নি। সেখানে অন্যান্য নারীদের সঙ্গে সিঁদুর খেলা ও প্রতিমার কপালে সিঁদুর দেয়ার আনন্দঘন আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন তিনি। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই তিনি হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন। একপর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়। পরে দ্রুত সাতক্ষীরা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।এই আকস্মিক ঘটনায় বিসর্জনস্থলের পুরো উৎসবমুখর পরিবেশ মুহূর্তেই শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। যে উৎসবে সিঁদুরের রঙে রঙিন হওয়ার কথা ছিল বিজয়ার শেষ বিকেল, সেখানে নেমে আসে মাতম ও কান্নার আবহ। একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন বাবা মহাদেব দেসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা।পাটকেলঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, বিসর্জনস্থলে এক নববধূর আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তন্নি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় তাদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

"সাকার উপাসনা থেকে নিরাকার সাধনা" / শত প্রতিকূলতা জয় করে দেবীর রূপদানে হবিগঞ্জের বীর সনাতনী নারীরা

হাওরবেষ্টিত হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পালপাড়া গ্রামে যুগ যুগ ধরে প্রস্ফুটিত হয়ে আসছে সনাতনী শিল্পকলা ও ভক্তির এক অনন্য নিদর্শন। শত বছরেরও বেশি সময় ধরে এই গ্রামের প্রতি ঘরে ঘরে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে মৃৎশিল্পের যে বিপ্লব ঘটে চলেছে, তার মূলে রয়েছেন সনাতনী নারী কারিগররা। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে দুর্গোৎসব কেবল একটি উৎসব নয়, এটি মনের আত্মিক নিবেদন ও সাকার উপাসনার এক পবিত্র মাধ্যম। মূর্তিপূজা ও সাকার উপাসনার মূল দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে অভ্র অর্পন নামের এক সনাতনী বলেন, "সনাতনীরা মূর্তিপূজা করি আমাদের মনকে একাগ্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। মন তো অনেক কিছুই চায়, চিন্তা শুধু ছুটাছুটি করে এদিক-সেদিক। সাকার উপাসনার অর্থই হলো, কিছু একটাকে অবলম্বন করে নিজের চিন্তার ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ আনা। সাকার উপাসনার পরবর্তী ধাপ হলো নিরাকার উপাসনা, সেটা সাধুরা এখনও করেন বনে-জঙ্গলে, হিমালয়ে। মা দুর্গার কাছে প্রার্থনা করি, মা যেন আমাদের চিন্তার ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে শেখান, আমাদের ধৈর্য যেন আরও বাড়িয়ে দেন। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও যেন হাসিমুখে সবাইকে ভালোবেসে একসাথে মানবকল্যাণে অনেক ভূমিকা রাখতে পারি।" অভ্র অর্পণের এই প্রার্থনার প্রতিধ্বনি ফুটে ওঠে পালপাড়ার নারীদের হাতের স্পর্শে, যারা পরম ভক্তিতে মাটির প্রতিমায় রূপ দেন দেবীকে।  ​সাধারণত প্রতিমা তৈরির কাজে পুরুষদের প্রাধান্য দেখা গেলেও পালপাড়ায় দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুরুষরা কেবল বাঁশ ও খড়ের প্রাথমিক কাঠামো তৈরি করার পর মূল কাজ অর্থাৎ মাটি মাখা, নিখুঁত অবয়ব প্রদান, রং তুলির আঁচড় ও দেবীর রূপসজ্জার যাবতীয় গুরুদায়িত্ব পরম মমতায় সামলান নারী কারিগররা। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে এই শিল্পের সাথে যুক্ত নিয়তি রানী পালের মতো অসংখ্য নারী মৃৎশিল্পী এখানে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। কেবল নিয়তি রানীই নন, মীরা, নেপাল, প্রতিমা পাল, প্রমিলা পাল, কাজল পাল এবং সীতা পালের মতো বহু নারী কারিগর তাঁদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় মা দুর্গাকে মর্ত্যে আবাহনের জন্য গড়ে তুলছেন। এমনকি পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা যেমন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, বাহুবল, মাধবপুর এবং সুনামগঞ্জ থেকেও দেবী প্রতিমার আগমনী বার্তা নিয়ে বায়মা আসছে এই গ্রামে।  ​তবে সনাতনী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এই মূল ভিত্তি ধারণকারী কারিগররা আজও অবহেলিত ও প্রান্তিক পর্যায়ে দিন কাটাচ্ছেন। প্রমিলা পালের মতো বয়োজ্যেষ্ঠ শিল্পীরা ক্ষোভ ও আক্ষেপের সাথে জানান, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে এই শিল্প চর্চা করে আসলেও কোনো প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক, সরকারি বা আর্থিক সহায়তা তাঁরা পাননি। জরাজীর্ণ ও অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে একদিকে যেমন প্রতিমা তৈরির কাঁচামাল আনতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়, অন্যদিকে তৈরি করা প্রতিমা যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সনাতনীদের এই মৌলিক অধিকার ও কারিগরদের জীবনমান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা তাদের শিল্পকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।  ​এ বিষয়ে স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রানেশ ভট্টাচার্য জানান, পালপাড়ার প্রতিমা শিল্পীদের হাতের কাজ ও সুলভ মূল্যের কারণে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস প্রদান করে বলা হয়েছে, মৃৎশিল্পীদের সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে। সকল প্রতিকূলতা ও অবহেলার মাঝেও সনাতনী নারী কারিগররা মা দুর্গার চরণে নিজেদের নিবেদন করে ধৈর্য ধরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যেন শত সংকটের মধ্যেও মানবকল্যাণে অটল থাকা যায়।  

‘পূজা এলেই কেন নিরাপত্তার দুশ্চিন্তা? / সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের ডাক এনসিপির

​শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বাংলাদেশে বসবাসরত সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ সকল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় এই সুদৃঢ় অবস্থান ঘোষণা করা হয়। সভায় দলটির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, দেশের মাটিতে ধর্মীয় বা সম্প্রদায়গত পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যদি বৈষম্য কিংবা নির্যাতনের শিকার হন, তবে তার বিরুদ্ধে সংসদে জোরালো বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি রাজপথেও এনসিপি কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তুলবে।​সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সার্বজনীন ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালনের আহ্বান জানিয়ে এনসিপি নেতৃত্ব বলেন, একটি অসাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষের স্বাধীনভাবে নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ সাংবিধানিক ও মানবাধিকার রয়েছে। ঐতিহ্যগতভাবে পূজা এলেই কেন সনাতনী সম্প্রদায়কে নিজ দেশের মাটিতে নিরাপত্তা ও আশঙ্কার দুশ্চিন্তায় ভুগতে হবে—এমন মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরা হয়। পূজা মণ্ডপগুলোতে প্রতি বছর আলাদা নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরির প্রয়োজনীয়তা যেন চিরতরে দূর হয় এবং সবাই স্বাভাবিক ও স্বাধীনভাবে ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের পরিবেশ পায়, সেটাই বর্তমান সময়ের বড় প্রত্যাশা। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ') সার্বজনীন মানবিক মূল্যবোধ ও অখণ্ড জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে দুর্গাপূজায় দেশের প্রতিটি প্রান্তে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকতে এবং সার্বিক সহযোগিতা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক ভূমিকা পালন করতে ইতোমধ্যেই সারা দেশে এনসিপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কঠোর নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।​মতবিনিময় সভায় অশুভ শক্তির চক্রান্ত ও সাম্প্রদায়িক উসকানি প্রতিহত করার তাগিদ দিয়ে উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মূল চেতনা নিহিত রয়েছে সব জাতি ও ধর্মের সুদৃঢ় সম্প্রীতির মধ্যে। কোনো ধরনের চক্রান্তের মুখে এই সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক মেলবন্ধন বিনষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। সন্ধ্যায় এনসিপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী ও বাংলাদেশ পূজা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা সহ বিভিন্ন সনাতনী ও সংখ্যালঘু অধিকার রক্ষা প্রতিনিধি দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আমিরাতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের একই পরিবারের মা-ছেলে নিহত, হাসপাতালে বাবা

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার একই পরিবারের মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন পরিবারের কর্তা সৌরভ বিশ্বাস। একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই আনন্দের যাত্রা পরিণত হয়েছে শোকের ঘটনায়।নিহতরা হলেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব কধুরখীল গ্রামের প্রবাসী সৌরভ বিশ্বাসের স্ত্রী অসীমা চৌধুরী (৪৮) এবং তাঁদের একমাত্র ছেলে অরিত্র বিশ্বাস (১৫)।প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন সৌরভ বিশ্বাস। তাঁর নিজের চালানো টয়োটা ইয়ারিস গাড়িতে সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী অসীমা চৌধুরী ও একমাত্র কিশোর ছেলে অরিত্র বিশ্বাস।পথিমধ্যে আবুধাবি-আল আইন সড়কের আল ওয়াথবা এক্সিট-৪৭ এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি নিশান সাফারি ফোর-হুইল গাড়ি তাঁদের বহনকারী গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয় বলে জানা গেছে। এতে টয়োটা ইয়ারিস গাড়িটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরিবারের তিন সদস্যই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আবুধাবি পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। পরে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় মাফরাক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা অসীমা চৌধুরী ও তাঁর ছেলে অরিত্র বিশ্বাসকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনায় আহত সৌরভ বিশ্বাসকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।একই দুর্ঘটনায় স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন প্রবাসী সৌরভ বিশ্বাস। যে পরিবারের সদস্যরা কিছুক্ষণ আগেও একসঙ্গে আনন্দঘন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন, সেই পরিবারের দুই সদস্যের জীবন থেমে গেল সড়কেই।এদিকে মা ও ছেলের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর পূর্ব কধুরখীল গ্রামসহ স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসের মাটিতে একই পরিবারের দুই সদস্যের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।স্ত্রী ও একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সৌরভ বিশ্বাসের সুস্থতা কামনা করেছেন স্বজনরা। একই সঙ্গে নিহত মা ও ছেলের আত্মার শান্তি কামনা করেছেন তাঁরা।প্রবাসে জীবিকার তাগিদে বসবাস করা একটি পরিবারের এমন করুণ পরিণতি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। একটি দুর্ঘটনা কীভাবে মুহূর্তেই একটি সাজানো সংসারের স্বপ্ন ভেঙে দিতে পারে, তারই হৃদয়বিদারক দৃষ্টান্ত হয়ে রইল এই ঘটনা।

মাত্র পাওয়া

<span class='techtaranga_subtitle'>​বঙ্গভূমির বেদনা কলকাতার উৎসবের মাঝে / </span>কলকাতার দুর্গাপূজায় শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর মুক্তির ডাক

​বঙ্গভূমির বেদনা কলকাতার উৎসবের মাঝে / কলকাতার দুর্গাপূজায় শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর মুক্তির ডাক

​কলকাতার বিখ্যাত সন্তোষ মিত্র স্কয়ার পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজার মহোৎসব চলাকালীন এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হলো। দেবী দুর্গার আরাধনায় যখন সারা বাংলা মুখর, ঠিক তখনই মণ্ডপে আগত একদল ধর্মপ্রাণ ভক্ত সম্মিলিত কণ্ঠে কারারুদ্ধ ইসকন সন্ন্যাসী শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন। এই ঘটনা কেবল ভক্তদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি সমগ্র সনাতনী সমাজের এক সুগভীর বেদনা এবং জাগরণের ইঙ্গিত বহন করে। শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারী ছিলেন বাংলাদেশের নিপীড়িত সনাতনীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিবেদিতপ্রাণ। তিনি সেই ভূমিতে সনাতনীদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন, তাদের আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ, যখন এই বঙ্গভূমির সনাতনীরা শারদীয় মহোৎসবের আমেজে মগ্ন, তখন তাদের বীর যোদ্ধার নিঃশব্দ কান্নার স্বর কি তারা সত্যি ভুলে গেলেন? প্রশ্ন উঠেছে, আনন্দের আতিশয্যে কি নিপীড়িত স্বজাতির বেদনা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে? ভক্তরা দাবি করছেন, অবিলম্বে শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং তার প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।  ​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​এই বঙ্গভূমির মাটিতেই জন্ম নিয়েছেন শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারী। তার ত্যাগ এবং সংগ্রাম এ দেশের সনাতনীদের জন্য এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস। অথচ, ক্ষমতার বেড়াজালে আজ তিনি কারাবন্দী, মুক্তির প্রহর গুনছেন একাকী। কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কয়ারের ঘটনা এটি পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, শাসকরা হয়তো তাকে বন্দি করতে পেরেছে, কিন্তু ভক্তদের হৃদয়ে তার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার স্থান একটুও কমেনি। ভক্তদের এই প্রতিবাদ কেবল শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবি নয়, এটি সনাতনী অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং বিশ্বব্যাপী মানবতার জয়গানের ডাক। তারা বিশ্বাস করেন, যেখানেই ধর্মাবলম্বীরা অধিকার বঞ্চিত হবেন, যেখানেই ধর্মের ধারকরা নিপীড়িত হবেন, সেখানেই প্রতিবাদের ঝড় উঠবে, যেমনটি উঠেছে কলকাতার শারদীয় উৎসবের মাঝে।

১৯ অক্টোবর ২০২৬
দুর্গাপূজা দেখতে যাওয়ার সুযোগে চট্টগ্রামে শিক্ষকের বাসায় দুঃসাহসিক চুরি, স্বর্ণালংকারসহ নগদ টাকা লুট

দুর্গাপূজা দেখতে যাওয়ার সুযোগে চট্টগ্রামে শিক্ষকের বাসায় দুঃসাহসিক চুরি, স্বর্ণালংকারসহ নগদ টাকা লুট

শারদীয় দুর্গাপূজার আনন্দের মধ্যেই চট্টগ্রাম নগরীতে ঘটেছে চুরির ঘটনা। পরিবারের সদস্যরা দুর্গাপূজা দেখতে বাইরে যাওয়ার সুযোগে একটি আবাসিক ফ্ল্যাটে ঢুকে স্বর্ণালংকার, রুপা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন হেমসেন লাইন এলাকার নূর ম্যানশনের ৯ নম্বর প্লটের চতুর্থ তলার ৭ নম্বর ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।ভুক্তভোগী দোলন চন্দ্র প্রেমা সিজিএস (CGS) কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক।ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পরিবারের সবাই পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে বাইরে যান। এ সুযোগে তাঁদের অনুপস্থিতিতে বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে।পরিবারের দাবি, বাসা থেকে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ৫ ভরি রুপা, নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং একটি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছে। এতে পরিবারটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।দুর্গাপূজার মতো ধর্মীয় উৎসবের সময় পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে এমন চুরির ঘটনায় বাসাবাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।তবে কীভাবে চোর বাসায় প্রবেশ করেছে, এ ঘটনায় কতজন জড়িত এবং থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।হিন্দুস নিউজ — Voice of Hinduism

১৯ অক্টোবর ২০২৬
উজিরপুরে হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা, প্রধান অভিযুক্ত মোতাহার গ্রেপ্তার

উজিরপুরে হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা, প্রধান অভিযুক্ত মোতাহার গ্রেপ্তার

দুর্গাপূজা এলেই কি হিন্দুদের ওপর হামলার আতঙ্ক বাড়ে? বরিশালের উজিরপুর উপজেলার হাবিবপুর গ্রামে একটি হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে ভূমিদস্যু মোতাহার মল্লিক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এক নারী আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।অভিযোগ অনুযায়ী, হাবিবপুর গ্রামে ওই হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা চালান মোতাহার মল্লিক ও তাঁর সহযোগী জসিম, জাহিদ এবং ছুটিতে থাকা সেনাসদস্য রাব্বি। হামলায় পরিবারের এক নারী আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হওয়ার পরও বাড়ির নারীদের হুমকি দেন রাব্বি মল্লিক। পুলিশের উপস্থিতিতে এমন হুমকির অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।এদিকে, এ ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রধান অভিযুক্ত মোতাহার মল্লিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযোগে নাম আসা অন্যদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদেরও অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। দুর্গাপূজার সময়ে এমন হামলার অভিযোগ জনমনে উদ্বেগ তৈরি করেছে। 

১৭ অক্টোবর ২০২৬
সুনামগঞ্জে চুরি হওয়া দেড়শো বছরের পুরনো প্রতিমা উদ্ধার, আটক ১

সুনামগঞ্জে চুরি হওয়া দেড়শো বছরের পুরনো প্রতিমা উদ্ধার, আটক ১

সুনামগঞ্জ শহরের বাঁধনপাড়া এলাকার একটি পারিবারিক মন্দির থেকে চুরি হওয়া দেড় শ বছরের পুরোনো তিনটি প্রতিমা ও মূল্যবান পূজাসামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তাঁর নাম-পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার নোয়াবাদ গ্রাম থেকে চুরি হওয়া প্রতিমা ও পূজাসামগ্রী উদ্ধার করা হয়।সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে শহরের বাঁধনপাড়া আবাসিক এলাকার ব্যবসায়ী রাজগোবিন্দ চক্রবর্তীর পারিবারিক মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা মন্দির থেকে প্রায় দেড় শ বছরের পুরোনো রাধা-মাধব, রাধা মা ও গণেশ ঠাকুরের তিনটি প্রতিমাসহ সোনা-রুপার মূল্যবান পূজার উপকরণ নিয়ে যায়।ঘটনার খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রতন শেখ ও পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) অভিজিৎ ভৌমিকের নেতৃত্বে অভিযান শুরু করে পুলিশ।পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে শহরের হাসননগর এলাকা থেকে এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ থানার নোয়াবাদ গ্রামে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া তিনটি প্রতিমা ও পূজাসামগ্রী উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা সামগ্রীগুলো সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় নিয়ে আসা হয় এবং মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।মন্দিরের মালিক ব্যবসায়ী রাজগোবিন্দ চক্রবর্তী বলেন, ‘বুধবার ভোররাতে ঘুম থেকে উঠে দেখি, মন্দিরের তালা ভাঙা। পরে দেখতে পাই, দেড় শ বছরের পুরোনো তিনটি প্রতিমাসহ মূল্যবান পূজাসামগ্রী নেই। মন্দিরের সবকিছু এলোমেলো অবস্থায় ছিল। পরে পুলিশকে খবর দিই। পুলিশ কিশোরগঞ্জ থেকে সেগুলো উদ্ধার করে দিয়েছে। এ জন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ।’সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রতন শেখ বলেন, ‘শহরের হাসননগর এলাকা থেকে এক সন্দেহভাজনকে আটকের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জ থেকে চুরি হওয়া বিগ্রহসহ পূজাসামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সেগুলো মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

১৭ অক্টোবর ২০২৬
পূজার ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন, পথে বাসচাপায় প্রাণ গেল হিন্দু পুলিশ সদস্যের

পূজার ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন, পথে বাসচাপায় প্রাণ গেল হিন্দু পুলিশ সদস্যের

 ভাঙ্গায় বাসের চাপায় হিটলার বিশ্বাস (৩৫) নামে এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের বাবলাতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই সোহেল খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।নিহত হিটলার বিশ্বাস (৩৫) গোপালগঞ্জের বড় ডুমরাসুর এলাকার সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে। তিনি ঢাকার দোহার থানার শাইনপুকুর তদন্তকেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন।পুলিশ ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, শারদীয় দুর্গাপূজার ছুটিতে কর্মস্থল থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন হিটলার। পথে ভাঙ্গার বাবলাতলা এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে আসা সার্বিক পরিবহনের একটি বাস তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সোহাগ মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনায় ওই পুলিশ সদস্যের পেটে গুরুতর আঘাত লাগে। হাসপাতালে আনা হলেও চিকিৎসা শুরুর আগেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।এ বিষয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদ আহমেদ বলেন, মোটরসাইকেলটিকে সার্বিক পরিবহন নামের একটি বাস ধাক্কা দিলে আমাদের পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

১৭ অক্টোবর ২০২৬
বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগে হিন্দু কৃষকের টমেটো ক্ষেত নষ্ট, পূজার কাপড় কেনা হলো না মেয়ের

বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগে হিন্দু কৃষকের টমেটো ক্ষেত নষ্ট, পূজার কাপড় কেনা হলো না মেয়ের

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে পূর্বশত্রুতার জেরে টমেটো ক্ষেতে বিষাক্ত রাসায়নিক প্রয়োগ করে ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় দুই বিঘা জমির টমেটো গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষকের দাবি, এতে তাঁর প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধলাই চা-বাগান সংলগ্ন এলাকায়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক গোপাল রবিদাশ। ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছে তাঁর পরিবার। আসন্ন দুর্গাপূজায় সন্তানদের নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার স্বপ্নও এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।কান্নাজড়িত কণ্ঠে গোপাল রবিদাশের মেয়ে বলে, “আমার বাবা বলেছিল আগামীকাল (শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর) আমাদের পূজার জামা কিনে দেবে। কিন্তু আমাদের পরিবারে এবার আর পূজার আনন্দ হবে না।”পরিবারটির কাছে দুর্গাপূজার নতুন পোশাক কেনার আনন্দ এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে। কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল পরিবারটির জন্য টমেটো ক্ষেতের এই ক্ষতি বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি করেছে।

১৭ অক্টোবর ২০২৬
মাছ চুরি সন্দেহে গাছে বেঁধে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হিন্দু ব্যবসায়ীকে হত্যা

মাছ চুরি সন্দেহে গাছে বেঁধে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হিন্দু ব্যবসায়ীকে হত্যা

সাতক্ষীরার তালায় মাছ চুরির সন্দেহে ক্ষিতিশ মন্ডল (৫২) নামে এক ঘের ব্যবসায়ীকে গাছে বেঁধে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় ক্ষিতিশ মন্ডলকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।নিহতের চাচাতো ভাই পার্থ মন্ডল এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ক্ষিতিশ মন্ডলের নিজেরই চার বিঘা জমিতে মাছের ঘের রয়েছে। মাছ চুরির সন্দেহে একজন মানুষকে রাতভর গাছে বেঁধে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিন আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মাছ চুরির অপবাদে ক্ষিতিশ মন্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।ওসি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

১৬ অক্টোবর ২০২৬
আনোয়ারায় দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুর, হামলায় আহত ১; আটক ২

আনোয়ারায় দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুর, হামলায় আহত ১; আটক ২

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দুর্গাপূজার প্রতিমা বহনকারী গাড়ির সঙ্গে স্থানীয় এক ভ্যানচালকের গাড়ির ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিমালয়ে ঢুকে ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অপু সরকার আকাশ (২২) নামে এক তরুণ আহত হয়েছেন। পাশাপাশি একটি কার্তিক প্রতিমার হাত ভেঙে ফেলা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার জয়কালী বাজারে লোকনাথ আশ্রমের পাশে অবস্থিত গৌরী শিল্পালয়ে এ ঘটনা ঘটে।আহত অপু সরকার আকাশ জানান, বিকেলে বারখাইন ইউনিয়ন থেকে তাঁরা আনোয়ারার গৌরী শিল্পালয়ে প্রতিমা নিতে আসেন। প্রতিমা গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় সাত্তারহাট সড়কের পদ্মপুকুর পাড় এলাকায় স্থানীয় এক ভ্যানচালকের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁরা আর তর্কে না জড়িয়ে দ্রুত প্রতিমালয়ে ফিরে আসেন। তবে এর কিছুক্ষণ পর ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল প্রতিমালয়ে এসে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা ও মারধর শুরু করে।প্রতিমালয়ের কারিগর কাঞ্চন চক্রবর্তীর স্ত্রী মুক্তা চক্রবর্তী জানান, হঠাৎ ১০ থেকে ১৫ জন লোক প্রতিমালয়ে ঢুকে আকাশকে মারধর করতে থাকে। এ সময় তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তাঁদের ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে হামলাকারীরা একটি কার্তিক প্রতিমার হাত ভেঙে দেয়।ঘটনার বিষয়ে উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ধর বলেন, তর্কাতর্কির জের ধরেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রতিমালয়ের লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলায় দুষ্কৃতকারীরা বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।খবর পেয়ে পুলিশ ও র‍্যাবের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় দুজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১৬ অক্টোবর ২০২৬
<span class='techtaranga_subtitle'>বাঁকা চোখে তাকালেই অ্যাকশনের হুঁশিয়ারি / </span>‘যতদিন বেঁচে আছি, হিন্দু ভাইবোনেরা বুক উঁচু করে চলবেন’ —হুইপ দুলু

বাঁকা চোখে তাকালেই অ্যাকশনের হুঁশিয়ারি / ‘যতদিন বেঁচে আছি, হিন্দু ভাইবোনেরা বুক উঁচু করে চলবেন’ —হুইপ দুলু

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে দেশজুড়ে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসবকে নির্বিঘ্ন, আনন্দমুখর এবং সুরক্ষিত করতে সরকারি অনুদান বিতরণের পাশাপাশি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে নাটোরে। বৃহস্পতিবার নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা উপজেলার সনাতনী মন্দির সমূহে সরকারি অনুদানের চাল বিতরণকালে এক আবেগঘন এবং কঠোর বার্তা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ (সদর-নলডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু। উপস্থিত সনাতনী সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, যতদিন তিনি বেঁচে আছেন, ততদিন এলাকার হিন্দু ভাইবোনদের কোনো ভয়ে সংকুচিত হয়ে থাকার প্রয়োজন নেই; বরং প্রতিটি সনাতনী নাগরিক পূর্ণ মর্যাদা ও বুক উঁচু করে নিজ ভূখণ্ডে বসবাস করবেন। সনাতনীদের নিরাপত্তা বিধান এবং তাদের অধিকার রক্ষায় সংসদ সদস্যের এই দৃঢ় প্রতিশ্রুতি স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে গভীর আশার সঞ্চার করেছে।​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​অনুষ্ঠানে এমপি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু আরও জানান যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। যেকোনো ধরনের বৈষম্য, হুমকি বা অশুভ তৎপরতার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে হুইপ বলেন, সনাতনীদের দিকে কেউ বাঁকা চোখে তাকালে বা হুমকি-ধমকি দিলে সরাসরি তাঁকে টেলিফোনে অবহিত করতে। ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গেই তাৎক্ষণিক ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ও সর্বজনীন মানবাধিকারের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, অতীতে হিন্দু-মুসলমানের মাঝে কোনো বিভেদ ছিল না এবং ঈদ ও পূজার মতো ধর্মীয় উৎসবগুলোতে একে অপরের আনন্দ ভাগাভাগির সুন্দর ঐতিহ্য ছিল। সনাতনীদের অধিকার ও সম্মান রক্ষা করে সেই সম্প্রীতির অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে নাটোর সদরের ৮২টি এবং নলডাঙ্গার ৫৯টি মন্দিরের প্রতিটির জন্য ৬০০ কেজি করে মোট বিপুল পরিমাণ সরকারি অনুদানের চাল বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এই আয়োজনটি সনাতনী সমাজের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে রইল।

১৫ অক্টোবর ২০২৬
২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২১ পিএম
আপনি কি একাদশী থাকতে ভালোবাসেন।

আপনি কি একাদশী থাকতে ভালোবাসেন।

  হ্যাঁ
  না
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন
সিঁদুর খেলতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তন্নি দে

​বঙ্গভূমির বেদনা কলকাতার উৎসবের মাঝে / কলকাতার দুর্গাপূজায় শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর মুক্তির ডাক

​কলকাতার বিখ্যাত সন্তোষ মিত্র স্কয়ার পূজা মণ্ডপে দুর্গাপূজার মহোৎসব চলাকালীন এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হলো। দেবী দুর্গার আরাধনায় যখন সারা বাংলা মুখর, ঠিক তখনই মণ্ডপে আগত একদল ধর্মপ্রাণ ভক্ত সম্মিলিত কণ্ঠে কারারুদ্ধ ইসকন সন্ন্যাসী শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন। এই ঘটনা কেবল ভক্তদের আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এটি সমগ্র সনাতনী সমাজের এক সুগভীর বেদনা এবং জাগরণের ইঙ্গিত বহন করে। শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারী ছিলেন বাংলাদেশের নিপীড়িত সনাতনীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিবেদিতপ্রাণ। তিনি সেই ভূমিতে সনাতনীদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন, তাদের আত্মমর্যাদা পুনরুদ্ধারে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ, যখন এই বঙ্গভূমির সনাতনীরা শারদীয় মহোৎসবের আমেজে মগ্ন, তখন তাদের বীর যোদ্ধার নিঃশব্দ কান্নার স্বর কি তারা সত্যি ভুলে গেলেন? প্রশ্ন উঠেছে, আনন্দের আতিশয্যে কি নিপীড়িত স্বজাতির বেদনা ঢাকা পড়ে যাচ্ছে? ভক্তরা দাবি করছেন, অবিলম্বে শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে এবং তার প্রতি হওয়া অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।  ​(News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')​এই বঙ্গভূমির মাটিতেই জন্ম নিয়েছেন শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারী। তার ত্যাগ এবং সংগ্রাম এ দেশের সনাতনীদের জন্য এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস। অথচ, ক্ষমতার বেড়াজালে আজ তিনি কারাবন্দী, মুক্তির প্রহর গুনছেন একাকী। কলকাতার সন্তোষ মিত্র স্কয়ারের ঘটনা এটি পরিষ্কার করে দিয়েছে যে, শাসকরা হয়তো তাকে বন্দি করতে পেরেছে, কিন্তু ভক্তদের হৃদয়ে তার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার স্থান একটুও কমেনি। ভক্তদের এই প্রতিবাদ কেবল শ্রী চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবি নয়, এটি সনাতনী অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম এবং বিশ্বব্যাপী মানবতার জয়গানের ডাক। তারা বিশ্বাস করেন, যেখানেই ধর্মাবলম্বীরা অধিকার বঞ্চিত হবেন, যেখানেই ধর্মের ধারকরা নিপীড়িত হবেন, সেখানেই প্রতিবাদের ঝড় উঠবে, যেমনটি উঠেছে কলকাতার শারদীয় উৎসবের মাঝে।

লিংক কপি করা হয়েছে!

পডকাস্ট

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ

Minority Lawyers Unite Against Violence: Here's What They're Demanding

Minority Lawyers Unite Against Violence: Here's What They're Demanding

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ || Hindus News || 12 ডিসেম্বর ২০২৬ ইং

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ || Hindus News || 12 ডিসেম্বর ২০২৬ ইং

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ || BRAKING || HINDU

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ || BRAKING || HINDU

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ || Hindus News || 18 জানুয়ারি ২০২৬ ইং

HindusNews এর দিনের প্রধান প্রধান অডিও সংবাদ || Hindus News || 18 জানুয়ারি ২০২৬ ইং

সিঁদুর খেলতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তন্নি দে

ক্যানসার আক্রান্ত শ্রাবণীর চিকিৎসায় সহযোগিতার আহ্বান, মীরসরাইয়ে পরিবর্তন টিমের মানবিক পূজা পরিক্রমা শুরু

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দের মাঝেও ভুলে যাননি ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করা অসহায় শ্রাবণীকে। পূজার আনন্দ শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে অসুস্থ এক বোনের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ের অরাজনৈতিক সামাজিক সংগঠন ‘পরিবর্তন টিম’।‘আসুন পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করি, আমাদের বোনের চিকিৎসায় সহযোগিতা করি’—এই মানবিক স্লোগানকে সামনে রেখে আজ মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়েছে সংগঠনটির পূজা পরিক্রমা ও ‘পরিবর্তন সেরা পূজা আয়োজক সম্মাননা–২০২৬’ কার্যক্রম।ক্যানসার আক্রান্ত শ্রাবনীর জন্য সহায়তা সংগ্রহ। ছবি: HindusNewsএবারের পূজা পরিক্রমায় পূজামণ্ডপের সৌন্দর্য, প্রতিমার সাজসজ্জা কিংবা সেরা আয়োজন নির্বাচনের পাশাপাশি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ক্যানসার আক্রান্ত শ্রাবণীর চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহে।আয়োজকদের পক্ষ থেকে পূজা উদযাপন কমিটি, দর্শনার্থী, ভক্ত ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, পূজার আনন্দের পাশাপাশি সবাই যেন নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী শ্রাবণীর চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।একজন অসুস্থ মানুষের জীবন বাঁচানোর প্রচেষ্টাকে দুর্গোৎসবের সঙ্গে যুক্ত করে পরিবর্তন টিমের এই উদ্যোগ মানবিকতার এক বিশেষ বার্তা বহন করছে।পূজা পরিক্রমা উপলক্ষে সংগঠনটি উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সৃজনশীল পূজা আয়োজকদের সম্মাননা প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ জন্য প্রতিমার শাস্ত্রসম্মত সাজসজ্জা, আকর্ষণীয় আলোকসজ্জা, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, সিসিটিভি ক্যামেরা, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং মাদকমুক্ত পূজা আয়োজনসহ ১১টি নির্দেশনা নির্ধারণ করা হয়েছে।নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করে সৃজনশীল ও সুশৃঙ্খলভাবে পূজা আয়োজনকারী কমিটিগুলোকে সম্মাননা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি বিশেষ সৃজনশীল আয়োজনের জন্যও থাকছে স্বীকৃতি।তবে এবারের আয়োজনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে শ্রাবণীর চিকিৎসায় সহযোগিতার উদ্যোগ। পূজামণ্ডপে আসা হাজারো মানুষের মধ্যে মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে তাঁর চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা সংগ্রহের প্রত্যাশা করছে সংগঠনটি।শারদীয় দুর্গোৎসব মানেই আনন্দ, উৎসব ও মিলনমেলা। সেই আনন্দের সঙ্গে যদি একজন অসুস্থ মানুষের চিকিৎসার আশা যুক্ত হয়, তবে উৎসবের তাৎপর্য আরও গভীর হয়ে ওঠে।পরিবর্তন টিমের এই মানবিক উদ্যোগে সাড়া দিয়ে ক্যানসার আক্রান্ত শ্রাবণীর পাশে দাঁড়াতে মীরসরাইয়ের পূজা উদযাপন পরিষদ, সনাতন ধর্মাবলম্বী, প্রবাসী ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।পূজার আনন্দ হোক মানবতার, সবার সহযোগিতায় শ্রাবণীর চিকিৎসার পথ হোক আরও সহজ—এমন প্রত্যাশাই পরিবর্তন টিমের এই উদ্যোগের মূল বার্তা।Hindus News | Voice of Hinduismwww.hindus-news.com

সিঁদুর খেলতে গিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তন্নি দে

পূজামণ্ডপ হোক ভক্তি,শৃঙ্খলা ও নিরাপদ আনন্দের স্থান। / দুর্গাপূজা:ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারায় শুদ্ধতার প্রত্যয়।

শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালির ধর্মীয় বিশ্বাস, লোকঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য সম্মিলন। দেবী দুর্গার মহিষাসুরবধের পৌরাণিক আখ্যানের মধ্য দিয়ে অশুভের ওপর শুভের বিজয়ের যে বার্তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে দুর্গাপূজা আজ কেবল ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি পরিণত হয়েছে মানুষের মিলন, সংস্কৃতিচর্চা, সৃজনশীলতা ও সামাজিক অংশগ্রহণের বৃহৎ উৎসবে। বাংলার দুর্গোৎসবকে ধর্মীয় আচার, সামাজিক অনুশীলন, উৎসব ও পরিবেশনশিল্পের সমন্বিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।বাংলার দুর্গাপূজার ঐতিহ্য বহু শতাব্দীপ্রাচীন। একসময় জমিদার ও বনেদি পরিবারকেন্দ্রিক পূজার প্রচলন থাকলেও ক্রমে তা সর্বজনীন রূপ লাভ করে। আজ শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম—বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বজনীন দুর্গোৎসব মানুষের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এ উৎসব হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ, সাংস্কৃতিক বিনিময় ও সম্প্রীতির অন্যতম মাধ্যম।দুর্গোৎসবের প্রতিটি পর্বের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নিজস্ব ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্য। মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের আবাহন, ষষ্ঠীর বোধন, সপ্তমীর নবপত্রিকা, অষ্টমীর অঞ্জলি ও সন্ধিপূজা, নবমীর হোম-যজ্ঞ এবং দশমীর বিসর্জন—সব মিলিয়ে গড়ে উঠেছে একটি সুসংবদ্ধ আচারপরম্পরা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এসব আচার বাঙালির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে।ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে শিল্প ও সংস্কৃতিদুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বাংলার শিল্প-সংস্কৃতিরও বড় একটি ক্ষেত্র। মৃৎশিল্পীর হাতে খড়, মাটি, বাঁশ ও রঙের সমন্বয়ে প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা, ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, আরতি, ধুনুচি নৃত্য, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—সবকিছু মিলেই পূর্ণতা পায় শারদীয় উৎসব।প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপসজ্জার সঙ্গে যুক্ত থাকেন অসংখ্য শিল্পী ও কারিগর। পাশাপাশি পরিবহন, আলোকসজ্জা, সাজসজ্জা, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দুর্গোৎসব স্থানীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলে। ফলে দুর্গাপূজা একদিকে যেমন ধর্মীয় উৎসব, অন্যদিকে তেমনি শিল্প, সংস্কৃতি ও মানুষের জীবিকার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।সময়ের সঙ্গে বদলেছে পূজার রূপসময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে দুর্গাপূজার আয়োজনেও এসেছে নানা পরিবর্তন। ঐতিহ্যবাহী পূজার পাশাপাশি এখন দেখা যায় থিমভিত্তিক মণ্ডপ, নান্দনিক আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব প্রতিমা, ডিজিটাল প্রচার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার এবং বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন।আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন চিন্তাধারা পূজাকে আরও বিস্তৃত মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। তবে আধুনিকতার এই অগ্রযাত্রার সঙ্গে ঐতিহ্য, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সামাজিক দায়িত্ববোধের ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি।পূজামণ্ডপ যেন কেবল বিনোদনের কেন্দ্র হয়ে না ওঠে; সেখানে ভক্তি, শালীনতা, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধও সমানভাবে বজায় থাকতে হবে।‘মদ্যপান করে  মাতলামি’—উৎসবের সংস্কৃতি হতে পারে না ? দুর্গাপূজা আনন্দের উৎসব, কিন্তু সেই আনন্দ কখনোই উচ্ছৃঙ্খলতার পর্যায়ে যেতে পারে না। পূজামণ্ডপে মদ্যপান, মাতলামি, অশালীন আচরণ, মারামারি কিংবা উচ্চস্বরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি শারদীয় উৎসবের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।পূজামণ্ডপে একই সঙ্গে নারী, শিশু, প্রবীণ, ভক্ত ও বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থীর উপস্থিতি থাকে। সেখানে মদ্যপ অবস্থায় কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে শুধু পূজার পরিবেশই নষ্ট হয় না, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হতে পারে। তাই পূজামণ্ডপকে মাদক ও মদ্যপানমুক্ত রাখা এবং শালীন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।আনন্দ প্রকাশেরও একটি সংস্কৃতি রয়েছে। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি, আরতি, ধুনুচি নৃত্য, ভক্তিগীতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পারস্পরিক শুভেচ্ছা—এসবই হতে পারে উৎসবের নির্মল আনন্দের মাধ্যম। কিন্তু মদ্যপান করে মাতলামি, অশালীনতা কিংবা অন্যকে বিরক্ত করা কোনোভাবেই সেই আনন্দের অংশ হতে পারে না।নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।দুর্গাপূজার মতো বৃহৎ উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সাধারণ দর্শনার্থীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হয়।পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক রাখা, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নিরাপদ রাখা, শিশু ও নারীদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর দেওয়া, অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা, বিদ্যুৎ সংযোগে সতর্কতা অবলম্বন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন।একই সঙ্গে শব্দদূষণ, অশালীন সাংস্কৃতিক আয়োজন, মাদক ও মদ্যপান, জুয়া কিংবা যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধে পূজা কমিটিগুলোকে কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।নিরাপদ পূজা নিশ্চিত করা কেবল প্রশাসনের দায়িত্ব নয়। পূজা কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক, ভক্ত, দর্শনার্থী এবং স্থানীয় জনগণ—সবার সম্মিলিত দায়িত্বেই একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ দুর্গোৎসব সম্ভব।পূজার মূল চেতনা ফিরে আসুক।দুর্গাপূজার প্রকৃত সৌন্দর্য শুধু প্রতিমার উচ্চতা, মণ্ডপের চাকচিক্য কিংবা আলোকসজ্জার জৌলুসে নয়। এর প্রকৃত শক্তি নিহিত ভক্তি, মানবিকতা, সম্প্রীতি, সৌন্দর্যবোধ এবং অশুভের বিরুদ্ধে শুভবোধ জাগ্রত করার মধ্যে।দেবী দুর্গার আরাধনার মূল শিক্ষা—অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শুভ শক্তির জয়। তাই পূজার আয়োজনেও সেই আদর্শের প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। নিজের ভেতরের হিংসা, অহংকার, লোভ, অসহিষ্ণুতা ও অন্যায়কে পরাজিত করার মধ্য দিয়েই দুর্গোৎসবের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করা সম্ভব।তাই পূজামণ্ডপ হোক প্রার্থনার স্থান, সংস্কৃতিচর্চার স্থান ও সামাজিক সম্প্রীতির স্থান। মদ্যপান ও মাতলামির পরিবর্তে থাকুক ঢাকের বাদ্য; অশালীনতার পরিবর্তে থাকুক শালীন সাংস্কৃতিক আয়োজন; বিশৃঙ্খলার পরিবর্তে থাকুক শৃঙ্খলা; বিভেদের পরিবর্তে থাকুক সম্প্রীতি।দুর্গাপূজা হোক শুধু দেবীর আরাধনা নয়—নিজের ভেতরের অসুরকে পরাজিত করারও অঙ্গীকার।সনাতন ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার।পূজামণ্ডপ হোক পবিত্র, উৎসব হোক নিরাপদ, সমাজ হোক সম্প্রীতির।

আজকের আবহাওয়া
আবহাওয়া তথ্য লোড হচ্ছে...
--°
গড় তাপমাত্রা
--°
সর্বোচ্চ
--%
বৃষ্টির সম্ভাবনা
লোড হচ্ছে...
<span class='techtaranga_subtitle'>​বৃন্দাবনের সুবাস ছড়িয়ে থাকা চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধাম / </span>ঐতিহাসিক পুণ্ডরীক ধামের অকথিত ইতিকথা

​বৃন্দাবনের সুবাস ছড়িয়ে থাকা চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধাম / ঐতিহাসিক পুণ্ডরীক ধামের অকথিত ইতিকথা

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নে অবস্থিত শ্রী শ্রী পুণ্ডরীক ধাম বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং বৈষ্ণব ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক সাধনার এক অনুপম ও পবিত্র তীর্থক্ষেত্র। বৈষ্ণব ধর্মীয় গ্রন্থ চৈতন্য চরিতামৃত অনুযায়ী, এই ধামের প্রতিষ্ঠাতা ও নামপ্রদানকারী পুণ্ডরীক বিদ্যানিধি ছিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর অত্যন্ত প্রিয় ভক্ত এবং বৈষ্ণব বিশ্বাসে শ্রীমতী রাধারানীর পিতা বৃষভানু মহারাজের অবতার। আধ্যাত্মিক তাৎপর্যের দিক থেকে ভক্তরা এই পবিত্র স্থানটিকে বৃন্দাবনের বার্ষাণার সঙ্গেই তুলনা করে থাকেন। প্রায় ১৫ থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক ধাম প্রাঙ্গণে রয়েছে পুণ্ডরীক বিদ্যানিধি ঠাকুরের ভজনকুটির, বিশাল নাটমন্দির, রাধাকুণ্ড, শ্যামকুণ্ড, গিরি গোবর্ধন, সর্বতীর্থ পরিক্রমা মন্দির এবং সংকীর্তন মঞ্চ। মন্দিরের নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী, চারপাশের স্নিগ্ধ সবুজ প্রকৃতি এবং শান্ত পরিবেশ দেশ-বিদেশ থেকে ছুটে আসা তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীদের মনে গভীর শান্তি ও আধ্যাত্মিক আমেজ এনে দেয়। News copied from- 'হিন্দুস নিউজ' প্রতিবছর গৌরপূর্ণিমা, চন্দনযাত্রা, শ্রীপঞ্চমী ও রাধাষ্টমীসহ বিভিন্ন বড় উৎসবে এই ধামে লাখো ভক্তের সমাগম ঘটে, যা সকল জাতির মানুষের মানবাধিকার, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং সনাতনীদের ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষার বার্তা জোরালোভাবে তুলে ধরে। চট্টগ্রামের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের পরিচয় বহনকারী এই পুণ্ডরীক ধাম আজ কেবল স্থানীয় গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে বৈষ্ণব সংস্কৃতি ও সনাতন ধর্মের এক আলোকবর্তিকা হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।