হাতিয়ায় হিন্দু পরিবারের ঘরের দরজায় বাইরে থেকে তালা, ভেতরে আটকা নারী ও দুই শিশু
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২৭ আগস্ট ২০২৬, ২২:৪৫
61 জন পড়েছেন
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ৮ নম্বর সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এক হিন্দু পরিবারের বসতঘরের দরজায় রাতে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ঘরের ভেতরে পাননাথ দাসের স্ত্রী ও তার দুই মেয়ে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রাতে আনুমানিক রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার ৮ নম্বর সোনাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে, এমসিএস উচ্চ বিদ্যালয়ের পেছনে পাননাথ দাসের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা বাইরে থেকে ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেয়।
ঘরের ভেতরে থাকা পাননাথ দাসের স্ত্রী ও তার দুই মেয়ে বাইরে বের হতে গিয়ে দরজায় তালা দেখতে পান। তারা দরজা খোলার চেষ্টা করেও বের হতে না পেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং কান্নাকাটি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে তারা বাইরে থেকে লাগানো তালা ভেঙে ঘরের ভেতরে থাকা তিনজনকে বের করে আনেন।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে একটি পরিবারের সদস্যদের ঘরের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠন। তাদের দাবি, এটি নিছক কোনো দুষ্টুমি নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে, তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে হাতিয়া জন্মাষ্টমী পরিষদ, হাতিয়া উপজেলা বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ এবং পূজা পরিষদ। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষয়টি তদন্ত করা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি সম্পর্কে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত করবে এবং একটি পরিবারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করবে।