লোহাগাড়ার বন্যায় স্বর্ণকার সুকুমার আচার্যের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চার সন্তান নিয়ে চরম মানবিক সংকটে পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
১১ জুলাই ২০২৬, ১৪:১৪
7 জন পড়েছেন
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পশ্চিম আমিরাবাদ মঙ্গলনগর বণিকপাড়া এলাকার বাসিন্দা স্বর্ণকার সুকুমার আচার্য (৪২) ভয়াবহ বন্যায় সবকিছু হারিয়ে এখন চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় তাঁর বসতঘর সম্পূর্ণ পানিতে তলিয়ে যায়। পানি নেমে গেলেও ঘরবাড়ি এখন বসবাসের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চার সন্তান, স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে তিনি ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
সুকুমার আচার্য জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই তাঁদের বাড়িতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির উচ্চতা এতটাই বেড়ে যায় যে গভীর রাতে বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে জীবন বাঁচাতে দ্রুত বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বের হতে হয়। এরপর কয়েকদিন ধরে এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে আশ্রয় নিয়ে থাকতে হয়েছে তাঁদের। শুক্রবার সন্ধ্যায় বন্যার পানি ঘর থেকে নেমে গেলেও ঘরের ভেতর কাদামাটি জমে আছে এবং পুরো ঘরই এখন ব্যবহার অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, বন্যার পানিতে ঘরের টিন, বেড়া, রান্নাঘরসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছু নষ্ট হয়ে গেছে। তাঁর স্কুলপড়ুয়া দুই সন্তানের বই-খাতা, কাপড়চোপড় এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমানে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অধিকাংশই ব্যবহার করার মতো অবস্থায় নেই।
পেশায় একজন স্বর্ণের কারিগর সুকুমার আচার্য স্থানীয় একটি স্বর্ণালংকারের দোকানে কাজ করেন। মাসিক মাত্র আট হাজার টাকা বেতনে ছয় সদস্যের পরিবার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘর পুনর্নির্মাণের জন্য প্রায় এক লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। নিজের কোনো সঞ্চয় না থাকায় এই অর্থ জোগাড় করা তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিবার নিয়ে কোথায় থাকবেন এবং কীভাবে সংসারের খরচ চালাবেন, সেই দুশ্চিন্তাই এখন তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
সুকুমারের স্ত্রী অর্পণা আচার্য বলেন, বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ বিতরণের খবর পাওয়া গেলেও তাঁদের পরিবারের খোঁজ এখনো কেউ নেয়নি। ঘরের চুলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় রান্না করাও সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয় একটি মুদি দোকান থেকে সংগ্রহ করা সামান্য শুকনা খাবার খেয়েই পরিবারের সদস্যরা দিন পার করছেন।
এদিকে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও এখনো বহু এলাকা পানির নিচে রয়েছে। সাতকানিয়ার ১৭টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত থাকায় প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছেন। সাঙ্গু নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কে যান চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
লোহাগাড়ার সদর ইউনিয়ন, আধুনগর, বড়হাতিয়া ও আমিরাবাদ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এখনো পানি জমে রয়েছে। এসব এলাকার মানুষ বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অভাবে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রশান্ত তালুকদার জানিয়েছেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।