রংপুরে চার খুনের চাঞ্চল্যকর রহস্য উন্মোচন: ধর্ষণের গুজব খারিজ ফরেনসিক রিপোর্টে
রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ায় সনাতনী পরিবারের চার সদস্যকে বর্বরোচিত হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুই ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শ্মশানের ডোমের বুদ্ধিমত্তায় অপরাধী ধরা পড়ে এবং ফরেনসিক রিপোর্টে শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
২৬ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১১
1,087 জন পড়েছেন
রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সনাতনী সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মুগ্ধ দাস ও তার সহযোগী সিদ্ধার্থকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই বর্বরোচক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা এবং তাদের দুই অবোধ শিশু সন্তান। জোড়া তদন্ত ও সাঁড়াশি অভিযানের মুখে অভিযুক্ত মুগ্ধ দাস দখিগঞ্জ শ্মশানের দরজায় কপাট নেড়ে ডোম বিদ্যুৎ মোহন্তের কাছে আশ্রয় চেয়ে ক্রাইম সিন স্বীকার করে বলে, ‘দাদা, পানি দাও, আমি ঘটনা ঘটাই ফেলছি, আমি তো মার্ডার করছি।’
তবে শ্মশানের ডোম বিদ্যুৎ মোহন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়ে দরজা না খুলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দেন। বিদ্যুৎ মোহন্ত জানান, আসামি এসে পানি চাইলে তিনি কেবল জানালা খোলেন এবং প্রশাসন এসে তাকে ঘেরাও করে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত কপাট বন্ধ রাখেন। পরবর্তীতে আসামিকে নিয়ে যাওয়ার সময় তীব্র ধিক্কার জানিয়ে তিনি বলেন, তুই যে কাজটা করছিস, তা মানুষের মানসিকতায় পড়ে না, তোর ফাঁসি হওয়া উচিত। চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পর ডিবি ও থানা পুলিশের অভিযানে প্রথমে আটক হয় সিদ্ধার্থ, যার তথ্যের ভিত্তিতে তুঁতফার্ম ও শ্মশান এলাকায় ধাওয়া করে মুগ্ধকে ধরে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে আসামিরা এই নৃসংশতার কথা স্বীকার করেছে। (News copied from- 'হিন্দুস নিউজ')
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো নিহত প্রীতিলতা ও তার মেয়েকে ধর্ষণের দাবিটি ময়নাতদন্ত শেষে খারিজ করেছে রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ। বিভাগের চিকিৎসক বাবলু কুমার বিশ্বাস জানান, ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত মেলেনি, বরং নরম ও নমনীয় বস্তু দিয়ে শ্বাসরোধের পাশাপাশি বুক ও মাথায় ভোঁতা অস্ত্রের আঘাত এবং নাকের কার্টিলেজ ভেঙে তাদের হত্যা করা হয়। চিকিৎসকদের ধারণা, মরদেহ উদ্ধারের আনুমানিক ২ থেকে ৪ দিন আগেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল। বর্তমানে চাঞ্চল্যকর এই চার খুনের মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জিনাত আলী জানান, সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এর পেছনে আর কারও ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই বর্বরোচিত ঘটনার পর রংপুর জিলা স্কুলে গভীর শোক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং মাছুয়াপাড়ায় নিহতদের নিজ বাসভবনে ধর্মীয় রীতিনীতি মেনে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে স্বজন ও স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায় সুবিচারের দাবিতে শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।