পটুয়াখালীতে হিন্দু শিক্ষক দীপা রানী দাসের রহস্যজনক মৃত্যু
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
১১ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪
37 জন পড়েছেন
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের হিন্দু শিক্ষক দীপা রানী দাসের (৫১) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে দশমিনা উপজেলার রনগোপালদী ইউনিয়নের মধ্য রনগোপালদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় দীপা রানী দাসকে ঝুলতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত দীপা রানী দাস মধ্য রনগোপালদী গ্রামের শুভ্র সূচি দাসের স্ত্রী। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার হিজলবাড়ি গ্রামের প্রয়াত যোগেশ চন্দ্র দাসের মেয়ে এবং গলাচিপার উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ‘হিন্দুধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা’ বিষয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।
উলানিয়া হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাধিক শিক্ষক জানান, দীপা রানী দাস দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর নির্যাতনের শিকার ছিলেন। তাদের দাবি, প্রাণনাশের আশঙ্কায় তিনি একসময় প্রায় এক বছর উলানিয়ায় বাসা ভাড়া করে আলাদাভাবে বসবাস করেছিলেন। পরে তার স্বামী নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে আবার বাড়িতে নিয়ে যান।
সহকর্মীদের অভিযোগ, স্বামী-স্ত্রীর বিরোধ মীমাংসার জন্য তারা অন্তত দুবার পারিবারিকভাবে বসেছিলেন, কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। দীপা রানী দাস নিরাপত্তার স্বার্থে পটুয়াখালী পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেছিলেন। এছাড়া তার স্বামীর কাছ থেকে ভবিষ্যতে আর নির্যাতন করবেন না মর্মে পুলিশের মাধ্যমে একটি মুচলেকাও নেওয়া হয়েছিল বলে শিক্ষকরা জানান।
তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রায় দুই বছর আগে দীপার জীবন চরম হুমকির মুখে পড়লে তিনি থানায় ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেছিল।
দীপা রানী দাসের মৃত্যুতে শোকাহত সহকর্মীরা বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়চেতা একজন মানুষ। তার পক্ষে এভাবে আত্মহত্যা করা কোনোভাবেই স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা- তা নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা উচিত। তারা দ্রুত ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে নিহতের স্বামী শুভ্র সূচি দাস নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব ঘটনা তিন বছর আগের। এখন সেগুলো টেনে আনার কোনো মানে হয় না। আমার স্ত্রী কেন আত্মহত্যা করেছেন, তা আমি জানি না।
এ বিষয়ে দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল রহমান বলেন, শিক্ষকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।