নওগাঁয় শতবর্ষী মন্দিরের ৪২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও জমি দখলের অভিযোগ সভাপতির বিস্ফোরক মন্তব্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
১০ জুলাই ২০২৬, ০০:১২
46 জন পড়েছেন
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার পারইল গ্রামের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী চন্ডিমাতা ঠাকুরানী মন্দির, শিব মন্দির ও কালী মন্দিরকে ঘিরে অর্থ আত্মসাৎ, দেবোত্তর সম্পত্তি দখল, অপহরণ এবং হামলা-নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মন্দির পরিচালনা কমিটির বর্তমান সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সরকার এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১২ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মন্দিরের আয়-ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব উপস্থাপন করা হয়নি। মন্দিরের জমি ও পুকুর ইজারা, বার্ষিক মেলা থেকে প্রাপ্ত প্রণামী এবং বিভিন্ন দান-অনুদান মিলিয়ে মোট ৪২ লাখ ১ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুবাশ চন্দ্র পাল, সাবেক সভাপতি তারিনী পদ সরকার এবং হরগোবিন্দ প্রামানিকসহ স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র পরিকল্পিতভাবে এসব অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, তৎকালীন জমিদার পরিবারের দান করা শ্রীশ্রী চন্ডিমাতা মন্দিরের ৮ দশমিক ৪৫ একর এবং শিব ও কালী মন্দিরের ৯৭ শতক দেবোত্তর সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে জবরদখল ও প্রতারণার মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ক্ষমতার অপব্যবহার করে এসব সম্পত্তি নিজেদের নামে রেকর্ড করে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র তরফদারকে অপহরণ করে একটি মাছের হ্যাচারিতে আটকে রাখা হয়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করানো হয়। একই রাতে বর্তমান সভাপতি সুভাষ চন্দ্র সরকারের বাড়িতে ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি সশস্ত্র দল হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।সুভাষ চন্দ্র সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ চালায় এবং বাড়ি থেকে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকে তিনি প্রাণভয়ে বাড়িছাড়া অবস্থায় রয়েছেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এদিকে, বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়ে বিরোধ এবং অবৈধ কমিটি গঠনের অভিযোগে আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। সুভাষ চন্দ্র সরকারের দায়ের করা একটি মামলায় আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন বলে জানা গেছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্তদের অন্যতম হরগোবিন্দ প্রামানিক সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমরা প্রতি বছরই হিসাব দিয়েছি। জমি বিক্রির সঙ্গে আমি জড়িত নই।”
তবে অভিযুক্তদের মধ্যে সুব্রত প্রামানিক রতন চন্দ্র তরফদারকে আটকে রেখে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, “দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই বিরোধের কারণে এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক পরিবেশে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত এসব মন্দিরের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও দেবোত্তর সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।