শ্রীরাম বিগ্রহ তৈরী করতে চাওয়া হরিদাস চন্দ্রের ৪ দিনের রিমান্ডে
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮
18 জন পড়েছেন
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এশিয়ার সর্ববৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেনের আদালত এই আদেশ দেন।
এর আগে আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কে এম রাকিবুল হুদা।
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবী শ্যামল কুমার রায়, সুশান্ত অধিকারী, বাসুদেব গুহ রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। তারা আদালতকে বলেন, মানি লন্ডারিংয়ের ব্যাপারে একটি লাইনও অভিযোগে লেখা নেই। তিনি ধর্মের পথের লোক। তিনি একটি মন্দির বানিয়েছেন। সেখানে ভক্তরা বিভিন্ন টাকা-পয়সা দেয় মন্দিরের জন্য। এখানে মানি লন্ডারিংয়ের কিছু নেই।
একপর্যায়ে বিচারকের অনুমতি নিয়ে হরিদাস আদালতে বলেন, ‘আমি একজন কৃষক ছিলাম। এখন মন্দির পরিচালনা করি। মন্দির করা কি আমার অপরাধ? যদি অপরাধী হই তাহলে কিছু করার নাই।’
আদালতকে হরিদাস আরও বলেন, ‘ভক্তদের দেওয়া এ টাকা যদি অন্যায় কাজে পরিচালনা করি তাহলে সেটা দেখা হোক। পরে বিচারক এ টাকা ভক্তদের দেওয়া কি না জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, জ্বি।’
এসময় উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, যদি জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হয় তাহলে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক রিমান্ডের কোনো প্রয়োজন নেই। পরে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে নথি পর্যালোচনায় রেখে কিছুক্ষণ পরে বিচারক চার দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।
আবেদনে বলা হয়, আসামির বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে হুন্ডি তথা দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার করার অপরাধের সত্যতা প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও এমএফএস হিসাবে বিপুল পরিমাণ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এই অর্থের উৎস, কারা এই অর্থ জমা দিয়েছে তাদের পরিচয় যাচাই করতে গ্রেপ্তার করা সহ আসামিকে নিবিড়ভাবে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। এর ফলে মামলা তদন্তে সহায়ক হবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। মামলাটির তদন্ত সমাপ্ত না হওয়া হবে। আসামিকে জেলহাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে মামলার তদন্তে ব্যঘাত ঘটবে।
গত ১২ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুরের মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের মৃত গোপিনাথ চন্দ্র তরনী দাসের ছেলে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস একজন সাধারণ ব্যবসায়ী এবং তিনি ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারসহ হুন্ডি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আসামির ব্যাংক হিসাবসমূহে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবে ব্যবসাবহির্ভূত নগদ অর্থ জমা করা হয়েছে। অভিযোগটির অনুসন্ধানে তার নামে ৫টি ব্যাংক হিসাব ও ৪টি এমএফএস (MFS) হিসাবে বিভিন্ন সন্দেহজনক উৎস থেকে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা।
জমা হওয়ার রেকর্ডপত্র ভিত্তিক তথ্য পাওয়া যায়। এই জমাকৃত অর্থ মানি লন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হয়।
সার্বিক অনুসন্ধানে সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণ, সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, ব্যাংকিং ডকুমেন্টস ও অন্যান্য তথ্যাদি বিশ্লেষণে জানা যায়, অভিযুক্ত হরিদাস অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র পরস্পর যোগসাজসে হুন্ডি তথা ‘দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার করত’। সর্বমোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা অপরাধলব্ধ অর্থ অর্জনসহ অর্জিত টাকা ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ২ (শ) এ৫ (১৪) ও (২৬) ধারা অনুসারে সম্পৃক্ত অপরাধ।
ওই ঘটনায় অর্গানাইজড ক্রাইম (ফাইন্যানশিয়াল ক্রাইম) সিআইডির পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।