আনোয়ারায় জমি বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা: পৈতৃক ভিটে দখলচেষ্টা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
সবুজ দত্ত,
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত:
২৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৯
75 জন পড়েছেন
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাজীগাঁও পশ্চিম শোলকাটা এলাকার বাদল মাস্টারের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি পরিবারের ওপর বর্বরোচিত হামলা, মারধর এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই তাণ্ডবে ভুক্তভোগী পরিবারের এক নারী সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন এবং এক বৃদ্ধ গুরুতর আহত হন।
ঘটনার শিকার ভুক্তভোগী জোসনা দত্ত ও সমীর দত্তের সাথে সরাসরি কথা বলে হামলার ভয়াবহতা এবং রাজনৈতিক নির্যাতনের বিস্ফোরক তথ্য জানা গেছে।
ভুক্তভোগীদের বিবরণ ও ঘটনার সূত্রপাত
ভুক্তভোগী জোসনা দত্ত ও সমীর দত্ত জানান, প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পাঠ ও বস্ত্র বিষয়ক সম্পাদক আশীষ কুমার সিংহের রাজনৈতিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তাদের পৈতৃক জমি দখলের অবৈধ চেষ্টা চালিয়ে আসছে। প্রতিপক্ষ জায়গাটি কেনা দাবি করলেও আজ পর্যন্ত কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এই পরিবারের ওপর ধারাবাহিক অত্যাচার চালানো হয়েছে এবং একাধিকবার প্রবীণ সমীর দত্তের শরীরেও হাত তোলা হয়েছে।
তারা জানান, ঘটনার দিন ২১ আগস্ট বিকেলে স্থানীয় কালীবাড়ির সামনে আশীষ কুমার সিংহের সাথে তাদের আত্মীয় দীপক জেঠুর বাকবিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে আশীষ তাদের বসতবাড়ির কাছে এলে জোসনা দত্তের সাথে পুনরায় তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে আশীষ জোসনা দত্তের হাত ধরে টানাটানি করলে আত্মরক্ষার্থে তিনি হাতে থাকা ঝাড়ু দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন এবং ধস্তাধস্তির সময় তা আশীষের গায়ে লাগে।
এই ঘটনার পরপরই আশীষের অনুসারী প্রীতম, পার্থ ও প্রথিক নামের তিন ব্যক্তি এসে বসতঘরের দরজায় লাথি মেরে ভেতরে প্রবেশ করে তাণ্ডব শুরু করে। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে হামলার যেসব বিবরণ পাওয়া গেছে।ঢুকে জোসনা দত্তকে চুলের মুঠি ধরে টেনে উঠানে নিয়ে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।ঘরে থাকা প্রবীণ সমীর দত্তকে নির্মমভাবে প্রহার করা হয়। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে স্থানীয় এক প্রতিবেশী এগিয়ে এসে সমীর দত্তকে কোলে করে পাশের বাড়িতে নিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন।
হামলাকারীরা শুধু শারীরিকভাবে নির্যাতনই করেনি, ঘরের টিনের চালে বড় বড় পাথর নিক্ষেপ করে এবং ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে।ঘটনার পর সংজ্ঞাহীন অবস্থায় জোসনা দত্তকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় মেডিকেল রিপোর্ট সংরক্ষণ করা হয়েছে। জোসনা দত্ত ও সমীর দত্ত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দলীয় পদ-পদবির দাপটে আমাদের ওপর বারবার হামলা হয়েছে। ইতিপূর্বে পুলিশের কাছে বারবার ধরণা দিয়েও কোনো প্রতিকার বা বিচার মেলেনি।উত্থাপিত অভিযোগ এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহারের বিষয়ে জানতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আশীষ কুমার সিংহ এবং অভিযুক্ত প্রীতম, পার্থ ও প্রথিকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী জোসনা দত্ত ও সমীর দত্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, তারা কোনো সংঘাত চান না; বরং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জমির সঠিক কাগজপত্র যাচাই এবং এই হামলার সুষ্ঠু বিচার চান। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।