বর্ষা আসার ১ সপ্তাহ আগেই ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ে ছাদ থেকে, জানুন রহস্যে ঘেরা এই জগন্নাথ মন্দিরের কথা
নিজস্ব প্রতিবেদক
হিন্দুস নিউজ
প্রকাশিত:
০৯ জুলাই ২০২৬, ১৬:২৯
28 জন পড়েছেন
১৬ জুলাই রথযাত্রা। তার আগে আজ জেনে নেওয়া যাক কানপুরের রহস্যে ঘেরা জগন্নাথ মন্দিরের কথা। প্রাচীন এই মন্দিরের ছাদ থেকে বর্ষা আসার ঠিক এক সপ্তাহ আগে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়তে শুরু করে।
কানপুরের জগন্নাথ মন্দির
আজকের যুগে সব কাজেই আমরা প্রযুক্তির উপর নির্ভর করি। আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানতে রয়েছে কৃত্রিম উপগ্রহ। মোবাইল অ্যাপ খুলেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানা যায়। তবে উত্তর প্রদেশের কানপুরে এমন এক প্রাচীন জগন্নাথ মন্দির আছে, যা সরাসরি আবহওয়া পূর্বাভাসের বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানায়।
এই মন্দিরের ছাদে লাগানো রয়েছে এমন একটি পাথর, যা যুগ যুগ ধরে নির্ভুল ভাবে বর্ষা আসার আগাম পুর্বাভাস দিয়ে চলেছে। এমনকি আবহওয়া দপ্তরের থেকেও নির্ভুল ভাবে এই মন্দিরের পাথর দেখে বর্ষা কবে আসবে তা জানা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষিজীবীরাও বর্ষা কবে তা জানতে এই মন্দিরের উপরই নির্ভর করে।
মন্দিরের ছাদ থেকে জলের ফোঁটা
কানপুরের ভিতরগাঁও ব্লকে অবস্থিত এই প্রাচীন জগন্নাথ মন্দির। প্রতি বছর বর্ষা আসার ঠিক এক সপ্তাহ আগে থেকে মন্দিরের ছাদে লাগানো পাথর থেকে ফোঁটা ফোঁটা জল পড়তে শুরু করে। যখন সারা দেশের গরমে নাজেহাল দশা, বর্ষা কবে আসবে, সেই ভেবে চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় সবাই, সেই সময় এই মন্দিরের ছাদ থেকে চুঁইয়ে পড়া ফোঁটা ফোঁটা জল জানিয়ে দেয় যে বর্ষা আসার বেশি দেরি নেই। এই অদ্ভুত দৃশ্য দেখতে বহু মানুষ ভিড় করেন এই জগন্নাথ মন্দিরে।
আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, জলের ফোঁটার আকার দেখে সারা দেশে বর্ষা কেমন হবে, তাও বলা যায়। যদি ছাদ থেকে মোটা মোটা ফোঁটায় জল পড়ে, তাহলে বুঝতে হবে সেই বছর সারা দেশে খুব ভালো বর্ষা হবে। কিন্তু জলের ফোঁটা ছোট হলে বর্ষায় ঘাটতি থাকবে। আর বাইরে আকাশে যেই বর্ষার কালো মেঘ জমতে শুরু করে এবং বৃষ্টি শুরু হয়, তখনই মন্দিরের ভেতরে জলের ফোঁটা বন্ধ হয়ে যায়।
এই মন্দির স্থানীয় কৃষকদের কাছে আশীর্বাদের মতো। আবহাওয়ার রিপোর্টের থেকেই জগন্নাথ মন্দিরের উপরেই তাঁরা বেশি নির্ভর করেন। মন্দিরের ছাদ থেকে জল পড়া শুরু হলেই বীজ বপন শুরু করেন তাঁরা। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই পদ্ধতি চলে আসছে যা কখনও ভুল প্রমাণিত হয়নি।
বিজ্ঞানী ও আর্কিওলজিক্যাল বিভাগের কর্মীরা বহুবার এই মন্দিরের রহস্য সমাধান করার চেষ্টা করেছেন। মন্দিরের দেওয়াল ও ছাদ পরীক্ষা করে বর্ষা আসার আগে এখানে কোথা থেকে জল আসে তা বোঝার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও এর সঠিক কারণ এখনও পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি। আকাশ যখন পুরোপুরি মেঘশূন্য, তখন এখানে কোথা থেকে জল আসে, তা আজও রহস্য। সাধারণ ভক্তদের কাছে এই ঘটনা জগন্নাথ দেবের অপার কৃপার অন্যতম নিদর্শন।